মোঃ আরিফ রববানী
ময়মনসিংহ
দীর্ঘদিন পর মানুষের ভোগান্তি নিরসনে অভিযান চালিয়ে ভালুকা পৌর এলাকার ফুট ওভার ব্রিজ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করলেন ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
শনিবার ৮মার্চ উপজেলাবাসীর সীমাহীন দুর্ভেগ ও ভোগান্তি নিরসনের লক্ষে উপজেলার মহাসড়কের উপর নির্মানাধীন ফুট ওভার ব্রিজ ও ফুটপাত দখল করে হকারদের গড়ে তোলা শতাধিক অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করার মাধ্যমে দখলমুক্ত করণ অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। এর আগের শনিবার সরেজমিন পরিদর্শন করে দখলদারদের স্বেচ্ছায় অবৈধ দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক দিনের সময় দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
ফুট ওভার ব্রীজ ও ফুটপাত হকারমুক্ত হওয়ায় শহরেরর ব্যস্ততম এলাকার সৌন্দর্য ফিরে এসেছে। পথচারীরা এখন নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন। রাস্তা বা ফুটপাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। চৌকি, ত্রিপল, বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী স্থাপনাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ফুটপাতে গড়ে তোলা হয়েছিল বেশ কিছু সেমিপাকা দোকানও। সেগুলোও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এই অভিযানে খুশী হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফুটওভার ব্রিজটি পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য নির্মাণ করা হলেও দখলদারদের কারণে সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বাধ্য হয়ে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে পারাপার হতো, ফলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হতো অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে ফুট ওভার ব্রিজের ওপর দোকান, ভিক্ষাবৃত্তি ও মসজিদের চাঁদা সংগ্রহের কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। একই সঙ্গে পৌরসভার নির্মিত ফুটপাত বিভিন্ন দোকানের দখলে চলে যাওয়ায় জনসাধারণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ইউএনও’র হস্তক্ষেপে ফুটপাত ও ফুট ওভার ব্রীজ দখলমুক্ত হওয়ায় পথচারীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ভালুকা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, উপজেলা পরিষদসহ সড়ক ও জনপথের সরকারি জায়গা দখল করে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও দোকান গড়ে তোলা হয়েছিল। আইন মেনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে এগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলা শহরের সরকারি জায়গা দখলমুক্ত হয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভবিষ্যতে পুনরায় দখল ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলার যেখানেই অবৈধ স্থাপনা থাকবে সেগুলো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করণের পাশাপাশি উপজেলার ব্যস্ততম এলাকা শহরের ফুটপাত ও ফুটওভার ব্রিজ দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হবে যাতে জনসাধারণ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন।
