চায়না দুয়ারী জাল নামে মূলত মাছ ধরার একটা ফাঁদ/ যন্ত্র বা fish trap. স্থানীয়ভাবে এটি চায়না দুয়ারি, চায়না চাঁয়, রিং জাল, চায়না বান্ধা ইত্যাদি নামে পরিচিত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০-১০০ ফুট এবং বেড় ১-১.৫ ফুট হতে পারে। এর বিশেষত্ব হল এর মেস (mesh size) বা গিঁঠ খুবই কাছাকাছি হওয়ায় কেবল মাছ নয়, মাছের পোনা, মাছের ডিম এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী, উদ্ভিদ সবই এতে আটকে যায়। এ কারণে মৌসুমী অসাধু মৎসশিকারী এবং সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন নদীতে হাজার হাজার চায়না দুয়ারী জাল পাতে। বিকেলে পেতে রাতে এবং সকালে মাছ সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে। কারেন্ট জালের মত নদীর মাঝামাঝি না পেতে এটা পাতা হয় পাড়ের কাছে বাঁশের সাহায্যে। সুতরাং অল্প পরিশ্রমে দ্রুত অনেক মাছ ধরা যায়। হাফ ফুট/ফুট দূরত্ব পর লোহার ফ্রেম দিয়ে নদীর তলদেশে পেতে রাখা হয় এই মরণফাঁদ। শুধু জীববৈচিত্র্য নষ্ট বা দেশীয় প্রজাতি হারিয়ে যাওয়া ছাড়াও, ছোট জেলে যারা এদেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরায় তাদেরও পেশা হুমকির মুখে। অবৈধ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এই জালের মাধ্যমে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে খেয়াল খুশিমত।
Protection and Conservation of Fish Act. 1950 এর section 3 এর sub section (3) এর clause (iv), Protection and Conservation of Fish Rules, 1985 এর Rule 12 প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, সরকার মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত মাছ ধরা ফাঁদ (trap), যে কোন আকারের ফাঁসযুক্ত জাল ব্যবহার করিয়া প্রস্তুতকৃত, এতদ্বারা উহার উৎপাদন, বিপণন, বহন, পরিবহণ, দখলে রাখা, বছরের যে কোন সময় এবং যে কোন জলাশয়ে ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন।
আজ ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন এর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আজিম উদ্দিন মহোদয় এর নেতৃত্বে অর্ধশত চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয় এবং সকলকে সতর্ক করে দেয়া হয়।
