নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর বালুঘাট বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল ৩য় টার্মিনাল নির্মানে ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ১ নম্বর ঘাটের সিলেকশন বালু শাহজালাল ৩য় টার্মিনালের ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার হচ্ছে । ফলে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ সমাপ্ত হবে না বলে বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারগন অভিমত জানিয়েছেন। কেননা টার্মিনাল নির্মাণ কাজে নূন্যতম ২ দশমিক ৫ সিলেকশন বালু ব্যবহার করা হয়। এই বালুর একমাত্র উৎস দুর্গাপুরের ১ নম্বর বালুমহাল।

মহামান্য হাইকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৮ এপ্রিল মহামান্য আদালত তিন দিনের ভিতর বালুঘাট বুঝিয়ে দেয়ার পুনরায় আদেশ দেন। সেই সাথে এপিলেন্টকে ১০ মের মধ্য বাকী পরিমান টাকা জমা দিতে আদেশ দেন । সেই আদেশে কার্যদিবসের কথা উল্লেখ ছিল না। কর্তৃপক্ষ সেই আদেশ বাস্তবায়ন না করে ২৬ এপ্রিল অ্যাপিলেড ডিভিশনে দ্বারস্থ হয়ে ১৮ এপ্রিল তারিখের আদেশ স্থগিত রাখার প্রার্থনা করেন।

একাধিক সুত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় এই আপীল দায়ের করেন । এদিকে দূর্গাপুর বালুমহালের বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় বিগত বছরের ইজারামূল্যের চেয়ে বর্তমান ইজারাদার ৩১ কোটি টাকা বেশী ইজারামূল্য দিয়েছেন সরকারকে। বেশী ইজারামূল্য পাওয়ায় সরকারের অধিক রাজস্ব আয় স্বার্থ রক্ষিত হয়েছে ।

তথ্যে আরও জানা গেছে গত ২৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের মহামান্য চেম্বার জজ আদালত ইজারাদারকে ১০ মে ভিতর ১৫% ভ্যাট ও ১০% উৎসে করের বাকি পরিমান টাকা জমা দিতে আদেশ প্রদান করেন।

সেই মোতাবেক ইজারাদার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই ০২ মে বাকী পরিমান টাকা চালান মূলে জমা দিয়ে ০৩ মে আদালতকে অবহিত করেন।

উল্লেখ্য, ৩ মে রাত ১১টা২৪ মিনিটে নেত্রকোণা জেলা কর্তৃপক্ষ ইমেইলে ইজারাদারকে অচল পত্র প্রেরন করে নতুন জটিলতার জন্ম দেন। ১ নম্বর বালু ঘাট এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের সকল উন্নয়ন কাজ এবং মেট্রোরেল,এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়েসহ সকল মেগা প্রকল্পের ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার্য বালুর একমাত্র উৎস নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলাধীন ১ নম্বর বালু মহাল।

এদিকে অত্র অঞ্চলের বালু মহালের শ্রমিকেরা বালুমহালটি যাতে দ্রুত চালু হয় এবং তারা তাদের কর্মে ফিরে যেতে পারেন, তার জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট উদার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ বালু মহালটি চালু না হওয়ায় এসব শ্রমিকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
সোমেশ্বরী নদীর ১ নম্বর বালুঘাটে এসব হাজার হাজার শ্রমিক দীর্ঘ প্রায় একমাস যাবত বালু ঘাটটি বন্ধ হওয়াতে উপার্জন আয়ের পথ বন্ধ থাকায় চরাসুদের ওপর দাদন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ঋণ করে তাদের সংসার চালাতে হচ্ছে। এতে দিনে দিনে ঋণের দেনা বেড়েই চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে নি:স্ব হয়ে যাওয়া ছাড়া কোন পথ সামনে শ্রমিকদের খোলা নেই বলে জানিয়েছেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *