ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় কারাগারে থাকা স্বামীকে জামিনে ছাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে জাহানারা খাতুন(৪৫) নামক এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।

উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান কর্মকার বাড়িতে গত গত মঙ্গলবার(২০ অক্টোবর) সকাল ১১ টার সময় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবদল নেতার নাম হযরত আলী মন্ডল। সে উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বে আছে। অভিযোগ উঠেছে সেই যুবদল নেতা হযরত আলী মন্ডল জাহানারা খাতুন(৪৫)কে তার স্বামীকে ছাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে প্রথমে কুপ্রস্তাব দেয়, পরে
জাহানারা খাতুন জোরপূর্বক শারীরিকভাবে হেনস্তার ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন(৪৫) ফুলবাড়ীয়া থানায় অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,জাহানারা খাতুনের স্বামী দুলাল মিয়া একটি বিদেশি টাকার লেনদেন মামলায় কারাগারে ছিলেন। প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। অভিযোগ অনুযায়ী, দুলাল মিয়াকে দ্রুত জামিনে মুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে জাহানারা খাতুনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন হযরত আলী মন্ডল।হযরত আলী জাহানারা কাপড় খুলে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
জাহানারার অভিযোগ, একপর্যায়ে হযরত আলী তাঁকে জোরপূর্বক খাটে ফেলে শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন। এ সময় তিনি বাধা দেন ও নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই নেতা তাঁকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন জাহানারা। তিনি অতীতে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ বলেন, আমার শাশুড়ির সঙ্গে নেতা হযরত আলী অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেছেন। মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। গত দুই দিন ধরে আমার শাশুড়ি বাড়িতে নেই; তিনি থানায় অভিযোগ করতে গেছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর বিচার চাই।

জাহানারা খাতুনের মা খাদিজা বলেন,আমার মেয়ের সঙ্গে হযরত আলী জোরপূর্বক অনৈতিক কাজের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।
এদিকে পুটিজানা ইউনিয়নের শিবগঞ্জ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা হযরত আলীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য মতে,একজন নারী ভালো না মন্দ, সেটি আলাদা বিষয়। তাঁর কাছে গিয়ে কেন জোরপূর্বক এমন আচরণের চেষ্টা করা হবে? অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখা হোক এবং দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, হযরত আলীর কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই নানা আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে হযরত আলী বলেন,আমাকে এ ঘটনাটি ঘটেছে পূর্বপরিকল্পিতভাবে। জাহানারা স্বামী বিদেশি টাকার লেনদেন বিষয়ে জেলে গিয়েছে। আমি জাহানার রুমে যেতে চাইনি আমাকে ডেকে নিয়েছে এ ব্যাডা এ ব্যাডা করে।আমি যেতে চাইনি জোরপূর্বক আমাকে যাড়িয়ে ধরেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ বলেন,এ বিষয়টি আমি টোটালি জানি না। যুবদল সব অঙ্গ সংগঠনই এখন ফারুক সাহেবের হয়ে গেছে। আমি বিএনপি’র রাজনীতি নিয়ে থাকি।

ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *