আরিফ রববানী
ময়মনসিংহ
সারাদেশের ন্যায় ময়মনসিংহেও প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তায় সকাল ০৭:৩০টা থেকে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে
বিকাল ০৪:৩০টা পর্যন্ত চলে। সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ ছিলো দৃশ্যমান।
উৎসব আমেজে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে প্রশাসনের প্রতি সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ভোটাররা। চলছে গণণার প্রস্তুতি।
দিনভর ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জিলা স্কুল, কাশর পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়, কাঁচিঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ ওয়েলফেয়ার স্কুল, নাসিরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়, মহাকালী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, ময়মনসিংহ মহিলা (ডিগ্রী) কলেজ, মহিলা সমিতি উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয
সহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করতে দেখা গেছে বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ্ শাম্মী এনডিসি, রেঞ্জ ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্থ ও প্রশাসন আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি ও ভোট প্রদানের হার বাড়তে দেখা গেছে সবার মধ্যে এক ধরনের উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। সবাই সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদানের জন্য অপেক্ষমান। সকালে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি এবং জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ সাইফুর রহমান ময়মনসিংহের কাঁচিঝুলিতে অবস্থিত ময়মনসিংহ ওয়েলফেয়ার স্কুল পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, ময়মনসিংহে ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৬৫টি।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী ‘ফোর্স ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান’ বা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব এর টহল দল সার্বক্ষণিক মাঠে নিয়োজিত ছিলো।
অধিকতর স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলো চিহ্নিতপূর্বক সেখানে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সকল ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ প্রতিটি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এমতাবস্থায় নির্বাচনি আচরণবিধি যথাবিহিত অনুসরণ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়।
জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিলো।
