নিজস্ব প্রতিবেদক
আবারো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল রাজধানী সহ সারা দেশ। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনূভুত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারতের মেঘালয় রাজ্য। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.২। তবে ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে গত আগস্ট থেকে গতকাল পর্যন্ত দুই মাসে দেশে ৬ বার ভূমিকম্প হয়েছে।
ভূতাত্বিক কারণে দেশে বেশি ভূমিকম্প ঝুঁকিতে আছে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চল। কারণ দেশের সীমান্তবর্তী ও ভেতরের ভূ-চুতি গুলো এই তিন অঞ্চলে সন্নিহিত।
ভূতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের অভিমত, ঝুঁকিপূর্ণ এসব অঞ্চলে ভূমিকম্প সহিষ্ণু মানসম্পন্ন বাড়িঘর ও অবকাঠামো নির্মাণ অত্যন্ত জরুরী। কারণ রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প ময়মনসিংহ অঞ্চলের জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অতীতের ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ন, নির্মাণ আইন না মেনে ভবন নির্মাণ, নিম্নমানের বাড়িঘর নির্মাণ এর কারণে। ময়মনসিংহ শহরে যা এখন প্রতিনিয়তই ঘটছে।নির্মাণ আইন মেনে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে ব্যক্তিগত এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠান দ্বারা নির্মিত অধিকাংশ বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না। বহুতল ভবন গুলোতে দুটি সিঁড়ির নির্মাণের কথা উল্লেখ থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এমনকি সিটি কর্পোরেশন এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত ভবনের নকশায় উল্লেখিত তলা অনুযায়ী নির্মাণ না করে ৭/৮ তলা অনুমোদন নিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা ৯/১০ তলা বা তার ও বেশী করা হচ্ছে। যার ফলে ময়মনসিংহ শহরের অধিকাংশ ভবন হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ। যা পরবর্তীতে কোন ভূমিকম্প হলে ময়মনসিংহ শহর পরিণত হবে মৃত্যুপুড়িতে এমনটাই আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।
