নিজস্ব প্রতিবেদক

২০০৮ সালে নাটোরের আশরাফ উদ্দীন নামে একজনকে নিজের পছন্দে বিয়ে করেন আছমা আক্তার। বিয়ের দুবছর পর তাদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। নাম রাখা হয় শিউলি আক্তার। ২০১৩ সালে রাজধানীর মহাখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান আছমার স্বামী আশরাফ। পরে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন আছমা। পরে ২০১৭ সালে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার আবদুল কাদের নামে একজনকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পরে কাদের প্রায়ই তার শ্বশুর বাড়িতে আসতেন। দুই-তিনদিন থেকে আবার চলে যেত। মাঝেমধ্যে আছমাও তার মেয়েকে নিয়ে কাদেরের বাড়িতে যেতেন। এভাবেই চলছিল।

এক পর্যায়ে কাদের ও আছমার মধ্যে মনোমালিন্য হয়। কাদের শ্বশুরবাড়িতে আসা বন্ধ করে দেন। তবে আছমা কাদেরের বাড়ি যাতায়াত করতেন। হঠাৎ একদিন কাদেরের বাড়ি থেকে ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তা কমিয়ে করে দেন আছমা। তখন ২০২০ সাল। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আছমা তার মেয়ে শিউলীকে স্কুল থেকে ডেকে এনে জোরপূর্বক ইদুঁর মারার ট্যাবলেট খাওয়ান। শিউলির বয়স তখন ১০ বছর।

শিউলির সঙ্গে এমন করতে দেখে আছমার মা মনোয়ারা বেগম (শিশুটির নানি) নিজের মেয়েকে নিবৃত করা চেষ্টা করেন। পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে মোবাইলের এয়ারফোনের তার পেঁচিয়ে মেয়ে শিউলীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন আছমা। ওই দিন রাতেই শিউলীর নানা সুরুজ মিয়া বাদী হয়ে মেয়ে আছমাকে একমাত্র আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

বিচার প্রক্রিয়ার পর আজ রোববার আদালত রায় দিয়েছেন। রায় শুনে দণ্ডপ্রাপ্ত আছমার মা মনোয়ারা বেগম আদালতের বারান্দায় লুটিয়ে পড়েন। এ সময় সুরুজ মিয়া তাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে আদালতের বারান্দায় একটি টেবিলে বসান। সেখানে বসে সুরুজ মিয়া তার স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে সুরুজ মিয়া বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে করে রায়ের সংবাদ জানাতে থাকেন। এ সময় দেখা যায় তিনি তার ছেলেকে ফোন করে বলছেন, ‘তোর বোনের ফাঁসি হইছে। খুশি থাকিস। আর সংবাদটা সবাইকে জানিয়ে দিস।’

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *