মোঃ ইমরুল আহসান
গাজিপুর সাফারী পার্ক ট্রাস্ট নীটওয়্যার লিঃ এর কনফারেন্স হলে ”স্মার্ট গন্তব্যে পর্যটকদের প্রতি স্টেকহোল্ডারগণের সমন্বিত আচরণগত দৃষ্টিভঙ্গি” শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত কর্মশালায় হাবিবুর রহমান, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) অতিরিক্ত আইজিপি ট্যুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশ, প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব আবু কালাম সিদ্দীক, ডিআইজি, টুরিস্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকা, জনাব ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক গাজীপুর, কাজী শফিকুল আলম বিপিএম, পুলিশ সুপার গাজীপুর, শারমিন আক্তার, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, ঢাকা, খলিল মিয়া ও কামরুল হাসান , চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, ট্রাস্ট নীটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লি:। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন আবু সুফিয়ান, অতিরিক্ত ডিআইজি ট্যুরিস্ট পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া ফারজানা (প্রশাসন ও অর্থ) অতিরিক্ত দায়িত্বে লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া, সৈয়দ মুরাদ আলী, উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তা, সদর, গাজীপুর, মোঃ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তা, শ্রীপুর, গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ।
উক্ত কর্মশালায় বিষয় বস্তু উপস্থাপন করেন ইয়াছমিন খাতুন, পুলিশ সুপার (ট্রেনিং এন্ড ওরিয়েন্টেশন) এবং সভাপতিত্ব করেণ ড. আশরাফুর রহমান, পুলিশ সুপার, ট্যুরিস্ট পুলিশ ঢাকা রিজিয়ন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্য বলেন বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ যেখানে একজন পর্যটক শীতকাল থেকে বর্ষাকাল যেকোনো সময় ভ্রমণ করতে পারে। সারাদেশে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লাখ মানুষ ভ্রমণ করছে। গাজীপুর জেলা একটি পর্যটন জেলা। এ জেলার পর্যটন বিকাশে সরকারের পাশাপাশি সকল নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সর্বাবস্থায় ওয়েলকাম করি। আমাদের প্রধান কাজ পর্যটকের দেহ ও সম্পত্তি রক্ষা সে সাথে পরিবেশ রক্ষা করা। আপনারা চাইলে আপনাদের পরিবেশ রক্ষা করতে পারেন এবং ট্যুরিজম এর বিকাশ ঘটাতে পারেন। এই এলাকার পর্যটন স্পটগুলো কী কী উন্নয়ন করে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে যাওয়া যায় সেই বিষয়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে মত বিনিময় করা হয়। এখানে উঠে আসে বিভিন্ন অসুবিধা উত্তরণের মাধ্যমে ভ্রমণকে আরো সুন্দর করা যায় এবং এরই মাধ্যমে টেকসই পর্যটন গঠনের সাথে সাথে যে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন আমরা দেখি সে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন করা যাবে।
ডিআইজি টুরিস্ট পুলিশ বলেন গাজীপুরের সমৃদ্ধ গার্মেন্টস শিল্পের পাশাপাশি ট্যুরিজম শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ১০ টাকার জিনিস যদি ৫০ টাকা রাখেন এ ধরনের আচরণ এ টুরিজম সেক্টর বিকাশে বাধাগ্রস্ত হবে তাই আমরা প্রতিটি পর্যটকদের সাথে আমাদের ব্যবহার ঠিক রাখতে হবে তাহলেই আমাদের পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে।
স্বাগত বক্তব্যে অতিরিক্ত ডিআইজি আবু সুফিয়ান, টুরিস্ট পুলিশ ঢাকা- সিলেট-ময়মনসিংহ ডিভিশন বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছায় টুরিস্ট পুলিশ গঠিত হয়। টুরিস্ট পুলিশ একমাত্র স্টেক হোল্ডার যারা অন্যান্য সার্ভিস প্রোভাইডারদের সাথে টুরিজম বিকাশে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক গাজীপুর বলেন সবুজ, শিল্পে ভরপুর, সমৃদ্ধ গাজীপুর। ট্যুরিজম বিকাশ ঘটাতে ট্যুরিজম কে সুন্দর ভাবে লালন করতে হবে এবং ট্যুরিজমের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।
পুলিশ সুপার গাজীপুর বলেন জাতির পিতার ভিশনারি লিডারশিপ এর কারণেই আজকের এই টুরিস্ট পুলিশ। পুরো বাংলাদেশ একটি পর্যটন এলাকা। ট্যুরিজম এ আমাদের যে সক্ষমতা তা ঈর্ষণীয়। আর এ সক্ষমতার পেছনে টুরিস্ট পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিভাগীয় বন্য কর্মকর্তা,ঢাকা বলেন গাজীপুর একটি মাল্টিপল ডাইমেনশনাল জেলা। এখানে সবচাইতে বড় আকর্ষণ শালবন, ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ইত্যাদি। এগুলি সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব।
ইউএনও শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন বলেন ট্যুরিজম একটি ইনভিজিবল প্রোডাক্ট। যার মাধ্যমে শ্রীলংকা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং ২০২০ সালে ৯০ কোটি ডলার আয় করেছে। আমরাও ট্যুরিজম বিকাশের মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করতে পারি।
ইউএন ও গাজীপুর সদর প্রশাসন বলেন বাংলাদেশ ইজ এ কান্ট্রি অফ এট্রাকশন। এখানে বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি দেশি পর্যটকদের সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
কর্মশালা উদ্বোধন করার পর অতিরিক্ত আইজিপি টুরিস্ট পুলিশ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিস ভিজিট করেন।
এ সময় তিনি গাজীপুরে সাফারি পার্ক ভিজিট করেন।
স্টেকহোল্ডার মোঃ রফিকুল ইসলাম ,ইনচার্জ সাফারি পার্ক তার বক্তব্যে বলেন, অনেকে বিনা টিকেটে প্রবেশ করতে চায়, এখানে ভাল মানের কোন হোটেল নেই, পর্যটকরা বিশৃঙ্খলা করে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে, সরকারি ভাবে কোন গাইড নেই, প্রশিক্ষিত গাইড দরকার।যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে রাখে।
স্টেকহোল্ডার মোঃ আনিসুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন,পার্কের সামনে অনেক চড়া মূল্যে জিনিসপত্র বিক্রি করেন। পার্কের নিরাপত্তা ভাল ,ট্যুরিস্ট পুলিশ অনেক ভাল কাজ করছে।
এছাড়াও সেমিনারে আগত স্টেকহোল্ডারগন তাদের বক্তব্যে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
