সৈয়দ মুনিরুল হক নোবেল

জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদে হাজারো হিন্দু পুণ্যার্থীদের অষ্টমী স্নান সম্পন্ন হয়েছে।
জগতের সব পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি, আত্মশুদ্ধি এবং চিরস্থায়ী পুণ্যলাভের আশায় পবিত্র অষ্টমী স্নানে অংশ নিয়েছেন হাজারো হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থী।
এ উপলক্ষে শনিবার ভোর থেকে শহরের পূর্ব প্রান্তে শেরপুর ব্রীজ সংলগ্ন পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে এই ধর্মীয় স্নান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবছরের মতো এবারও অষ্টমী স্নান উপলক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদপাড় পরিণত হয় নারীপুরুষ আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার এক বিশাল ধর্মীয় সমাবেশে। নদের পাড়জুড়ে কয়েক হাজার ভক্তের পদচারণায় উৎসবমূখর পরিবেশে ধর্মীয় শ্রদ্ধা ও ভক্তিতে সবাই একসঙ্গে স্নান করেন।
অষ্টমী তিথিতে নদীতে স্নান করা হিন্দু ধর্মমতে অত্যন্ত পুণ্যফলদায়ী। এই উপলক্ষে জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পুণ্যার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ে নদীতে অবগাহন করেন। নিজ নিজ ইচ্ছা ও পারিবারিক রীতি অনুযায়ী তাঁরা সঙ্গে আনেন ফুল, বেলপাতা, ডাব, ধান, দুর্বা ও পূজার উপকরণ। এসব সামগ্রী দিয়ে নদীর পাড়ে অর্চনা ও স্নান সম্পন্ন করেন ভক্তরা।
স্নান শেষে পুণ্যার্থীরা উপস্থিত হন জামালপুর শহরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী কালী মন্দিরে। সেখানে পূজা-অর্চনা, অর্ঘ্য প্রদান এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সম্পাদনের মধ্য দিয়ে তাঁরা নিজেদের আত্মিক শান্তি লাভের চেষ্টা করেন।
অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় বসেছে তিন দিনব্যাপী অষ্টমী মেলা। মেলায় হস্তশিল্প, প্রসাধনী, মুড়ি-মুড়কি, সাজ, গজা, নিমকি, জিলিপির মত বৈচিত্রপূর্ণ খাবারসহ নানা সামগ্রী বিক্রির জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে দয়াময়ী মোড় এলাকা।
অন্যদিকে, অষ্টমী স্নান ও মেলা ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জামালপুর জেলা পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ রয়েছে তৎপর। এদিকে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
অষ্টমী সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম পবিত্র এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশ, ভক্তি ও আনন্দময় এক মিলনমেলায় পরিণত হয় জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদ তীর।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *