পর্যাপ্ত পানি পান, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শই কিডনির পাথরজনিত জটিলতা এড়ানোর প্রধান উপায়।
বিশেষ প্রতিনিধি- রাজেশ রায়
কিডনিতে পাথর বা কিডনি স্টোন বর্তমানে একটি পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। এটি ছোট দানার মতো হতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে আকারে বড় হয়ে তীব্র ব্যথা ও জটিলতার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পানির ঘাটতি, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে কিডনিতে পাথর তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
কিডনিতে পাথর হলে সাধারণত কোমর বা পিঠের একপাশে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এছাড়া প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং কখনো কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কিডনিতে পাথরের সমস্যা দেখা দিলে প্রথমেই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ছোট আকারের পাথর পর্যাপ্ত পানি পান ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে যেতে পারে।
তবে তীব্র ব্যথার সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। কারণ এসব লক্ষণ কিডনিতে সংক্রমণ বা প্রস্রাবের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নিজে নিজে ওষুধ সেবন বা লোকজ চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাথরের আকার ও অবস্থান অনুযায়ী চিকিৎসক ওষুধ, লেজার চিকিৎসা অথবা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিতে পারেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান, অতিরিক্ত লবণ ও কোমল পানীয় পরিহার এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
