মোঃ আব্দুল হাই
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাইয়ে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কৃষক সাইদুল হত্যা মামলায় পিতা-পুত্রসহ ১০ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নুরুল ইসলাম এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট আদালতের সরকারি এপিপি আবু নাছিম মো: শামীমুল ইমাম শামীম।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন কালাই উপজেলার আওড়া কালিমোহর গ্রামের , মৃত তফিজ উদ্দিন এর ছেলে ১। মোঃ জয়নাল মন্ডল, ২। মোঃ মোজাম্মেল হক, ৩। মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, মোঃ মোফাজ্জল হোসেন এর ছেলে ৪। মোঃ মোস্তফা ,৫। মোঃ মোসফর আলী, মোঃ মোজাম্মেল হক এর ছেলে ৬। মোঃ মাহফুজার রহমান, ৭। মোঃ মাসুদ, ও ৮। মোঃ মামুনুর রশীদ, পিতা-মোঃ বাদশা, ৯। মোঃ সামসুদ্দিন, পিতা-মৃত লসির উদ্দিন ② নাসির উদ্দিন, ১০। মোঃ বেলাল বেলাতে হোসেন, পিতা-মোঃ আলমগীর হোসেন আলম মিয়া মন্ডল, উভয়ের থানা-কালাই, জেলা-জয়পুরহাট ।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৫ জুলাই বিকেলে কালাই উপজেলার আওড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের পৈত্রিক দখলীয় সম্পত্তিতে আসামীরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাটি কেটে তাদের অন্য জমি ভরাট করছিল। তখন সামাদের দুই ছেলে সাইদুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম তাদের বাঁধা দিলে আসামীরা সাইদুল ও শরীফুলকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালাই হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ জুলাই সাইদুল ইসলামের মৃত্যু হয় । এ ঘটনায় নিহতের পিতা আ: সামাদ বাদী হয়ে কালাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি তদন্ত বিম্বজিৎ বর্মন ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। পরবর্তী ২২ জন স্বাক্ষীর সাক্ষতে আজ এ রায় দেন।
মামলার সরকারি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন আবু নাছের মো: শামীমুল ইমাম শামীম। আর আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন কাজী রাব্বিউল হাসান মোনেম।
