লুৎফর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
১৪৩২ বাংলা পুরাতন সালকে বিদায় এবং নতুন ১৪৩৩ বাংলা সাল নববর্ষ কে স্বাগত জানিয়ে সারা বাংলাদেশের ন্যায় বরণ করলেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। পহেলা বৈশাখের বেলা উঠার সাথে সাথে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর উৎসবে আনন্দ মেতে উঠেছে অত্র উপজেলার লোকজন। এসো এসো হে বৈশাখ, কবির ভাষায় বৈশাখ কে একদিকে আহবান জানানো হয়েছে অপরদিকে জীর্ণশীর্ণ পুরাতনকে বিসর্জন দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা বাঙালি বাংলাকে নিয়েই আমাদের চির গর্ব, আমাদের হৃদয়ের সাথে গেথে আছে হাজার বছর ধরে এ যেন এক ভালোবাসা। জয়পুরহাট কালাই উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১৪ই এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শামীম আরা এর উদ্যোগে “নববর্ষের ঐকতান গণতন্ত্রের পুনরুত্থান”এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বাংলা নববর্ষ ( ১৪৩৩ ) পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে মহাসড়ক ও প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের শেষে উক্ত উপজেলা চত্বরে শিশু পার্কে এসে শোভাযাত্রাটির সমাপ্তি ঘটে। এরপর পহেলা বৈশাখ উদযাপনের তাৎপর্য তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শামীম আরা। তিনি বলেন বাংলার প্রতিটি ঘরে প্রবাহিত হোক সবার জীবনে বয়ে আসুক সুখ আর শান্তি , সমাজ থেকে চিরতরে দূরীভূত হোক মিথ্যা ,অন্যায় ,অত্যাচার , নির্যাতন,দুর্নীতি ও অশান্তি ।সকলের জীবন হয়ে উঠুক সমৃদ্ধময়, সবাইকে বাংলা (১৪৩৩)নববর্ষ পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সুখ ও শান্তি মঙ্গল কামনা করে তিনি বক্তব্য শেষ করেন। এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, শিক্ষক ,শিক্ষার্থী, সাংবাদিকবৃন্দ সহ নানা শ্রেণী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী আদি কালের খাবার শুরু হয় ইলিশ আর পান্তা ভাত, সাথে ছিল কাঁচা মরিচ আর পেয়াজ।খাবার মজাই ছিল আলাদা আর পান্তা ভাতের অন্যরকম স্বাদ । পান্তা খাওয়ার দরজা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। এরপর আদিকালের নানান ধরনের খেলা শুরু হয়। চরকি, নাগরদোলা,গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, নাঙ্গল, জোয়াল, ফাল,পাশি,পানি ছেচা শিনি , ঢেঁকি, কলশ,মাছ ধরা হ্যাংগা, ধরঙ্গা ,মাছ ধরা পলয়, মাছ রাখা খলয়, খরমসহ বিভিন্ন রকমের ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র বৈশাখী মেলাতে দেখা যায়। বিকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শহীদ মিনারে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।”এসো এসো হে বৈশাখ ” বৈশাখী উপলক্ষে মন মাতানো গান ও নাচ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটির সমাপ্তি ঘটে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *