মোঃ ইমরুল আহসান
একটা কথা জেনে রাখা ভাল, আর্থিং বা গ্রাউন্ডিং যে সর্বদাই ভূমিতে আবদ্ধ থাকবে এই কথাটির কোন ভিত্তি নেই। নাম শুনেই আমরা অনেকে অনুমান করে থাকি যে, আর্থিং তারটি ভূমিতে সংযুক্ত থাকবে। এটি মূলত সেই বৈদ্যুতিক ক্যাবলকে নির্দেশ করছে যার রোধ বা ইম্পিড্যান্স খুবই নগণ্য। প্রায় শূন্যের কাছাকাছি যেন শর্ট সার্কিট ফল্ট দেখা দিলেই অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহ এই অল্প রোধবিশিষ্ট ক্যাবলের মধ্য দিয়ে চলে যেতে পারে। এটিকে অতিরিক্ত কারেন্টের জন্য একটি শর্টকাট পথ বলা যেতে পারে। তাই বুঝতেই পারছেন এই সিস্টেম কতটা জরুরি। এই সিস্টেম ব্যতীত আপনার ব্যবহৃত ডিভাইসটি পুড়ে ফ্রাই হয়ে যেতে পারে অথবা আপনি তড়িতাহত হতে পারেন।
কথা না বাড়িয়ে সরাসরি মূল পয়েন্টে আসা যাক। উড়োজাহাজের ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক সিস্টেম মূলত উড়োজাহাজের মেটাল বডির মাধ্যমেই আর্থ করা হয়ে থাকে। উড়োজাহাজ ম্যানুফেকচারিং কোম্পানিগুলো সাধারণত এলুমিনিয়াম দিয়ে উড়োজাহাজের মেটাল সারফেস তৈরি করে থাকে। আর আমরা জানি, এলুমিনিয়ামের বিদ্যুৎ পরিবাহিতা অনেক বেশি। যখন উড়োজাহাজের ইলেকট্রিক্যাল প্যানেলে কোন ফল্ট হবে তখন অতিরিক্ত কারেন্ট উড়োজাহাজের মেটাল বডিতে পৌঁছে যায় এবং ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমটি সুরক্ষিত থাকে। অধিকাংশ উড়োজাহাজে স্ট্যাটিক ডিসচার্জার বা স্ট্যাটিক উইক ডিজাইন করা থাকে যা অতিরিক্ত ইলেকট্রিক্যাল চার্জকে মুক্ত বাতাসে ডিসচার্জ করতে পারে।
উড়োজাহাজের আর্থিং সিস্টেমকে আরো ভালভাবে বোঝার জন্য আপনি উড়োজাহাজের উপর বজ্রপাতের ঘটনাকে কল্পনা করতে পারেন। মনে করুন, আপনি মেঘাচ্ছন্ন দিনে প্লেনে করে দুবাই যাচ্ছেন। হুট করে উড়োজাহাজের উপর বজ্রপাত পতিত হল। বজ্রপাত হতেই পারে। বিভিন্ন কোম্পানির প্লেনের পাইলটদের ভাষ্যমতে প্রতি তিন হাজার ঘন্টায় একবার বজ্রপাত হবেই। তাহলে এখন উপায় কি? বজ্রপাত হলেও আপনি শুধু আলো আর শব্দ হয়ত বুঝতে পারবেন কিন্তু আপনি এবং আপনার সহযাত্রীদের কোন ভয়ের কারণ নেই। কারণ প্লেনের ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমটি তখনও থাকবে সুরক্ষিত। বজ্রপাতের ফলে অতিরিক্ত চার্জ প্লেনের মেটাল বডি এভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
