‎‎ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শাকসবজি, পেঁপে গাছ, কলাগাছ ও কাঁচা ধানের চারা কেটে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুল্লাপাড়া গ্রামে গ্রামীণ সড়কের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কেটে ফেলা ধানখেতের পাশে ‘জোরপূর্বক জমি দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন’ লেখা ব্যানার নিয়ে এতে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জমি দখলের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানান।
ভুক্তভোগী আব্দুল হাই (৫৫) ওই গ্রামের মৃত তাহের উদ্দিনের ছেলে। একই গ্রামের প্রয়াত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে নোমানের (৪০) সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে বলে জানা গেছে।
আব্দুল হাইয়ের অভিযোগ, এর আগেও প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের জমি দখলের চেষ্টা করেছেন এবং পরিবারের সদস্যরা মারধরের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ১৯৫/২৪ নম্বর মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। তাঁর দাবি, মামলা তুলে নিতে তাঁকে বারবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
আব্দুল হাই বলেন, গত ৭ অক্টোবর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের বসতবাড়িতে হামলা চালান। ওই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী একা তাঁদের চলে যেতে বললে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির আঙিনায় লাগানো শিম, পেঁপে, লাউ, বেগুন ও কলাগাছসহ বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলেন। পাশাপাশি জমিতে রোপণ করা কাঁচা ধানও কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়, এ নিয়ে মামলা করলে জমি জোর করে দখল করে নেওয়া হবে। পরে বাড়িতে ফিরে ফসল ও বাগান নষ্ট অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ৭ অক্টোবর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ফসল নষ্ট করা, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোমান বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিরোধপূর্ণ জমিটি ১৯৮৪ সালে আব্দুল হাইয়ের চাচাতো ভাই আব্দুল হামিদের কাছ থেকে তাঁরা কিনেছেন। ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক তাঁরা। এ ছাড়া জমিটি তাঁর বাবা গিয়াস উদ্দিনের নামে বিআরএস রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। গাছপালা ও ধান কেটে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে নোমান বলেন, এসব গাছ ও ধান কারা কেটেছে, তা তিনি জানেন না।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *