আরিফ রববানী
ময়মনসিংহ
তরুণ প্রজন্মের অগ্রগতির অন্তরায় মাদক। মাদকের ছোবলে তরুণ যুবসমাজ যেভাবে অপরাধের দিকে ধাবিত হচ্ছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ। মাদকাসক্তের সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে সপ্তম। শিশু-কিশোর-যুবা-বৃদ্ধা-নারী-পুরুষ-নির্বিশেষে মাদকের ভয়াল থাবার শিকারে পরিণত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অপরদিকে ছিনতাই, কিশোরগ্যাং সহ আরো নানান আতঙ্কে রয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের মানুষ। আর এসব ভয়াবহতা উপলব্ধি করেই ছিনতাই,কিশোরগ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ হোসেন।
এর আগে তিনি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়িত্ব পালনকালে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার জন্য ব্যাপক প্রশংসা পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে বদলী হন । গত ৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিশাল থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন। যোগদানের পর থেকে দায়িত্ব পালনে অফিসার ইনচার্জ হিসাবে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, বিশেষ অভিযানে সফলতা এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের জন্য ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়ে উঠেছেন।
ত্রিশাল থানায় দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওসি ফিরোজ হোসেন বলেন-
ত্রিশালবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার প্রথম দায়িত্ব । আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুদৃঢ় রাখা, অপরাধ দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেন সর্বোচ্চ সহায়তা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ পান—সেটি নিশ্চিত করতে আমি বদ্ধপরিকর।”
তিনি আরও বলেন, পুলিশি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনগণের আস্থার জায়গায় উন্নীত করতে আধুনিক পদ্ধতিতে কাজ করা হবে এবং প্রতিটি এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
নতুন ওসিকে স্বাগত জানাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অভিনন্দন জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর নেতৃত্বে থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং জনসেবামুখী কার্যক্রম নতুন গতি পাবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অপরাধ নির্মুলে তার নিরলস প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে একজন জনবান্ধব, সৎ ও কর্মঠ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। হয়ে উঠেছেন জনতার আস্থার প্রতীক।
নতুন হলেও তাঁর কাজের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণে ইতোমধ্যে ত্রিশাল থানা এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ আগের তুলনায় দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা মোতাবেক থানায় যোগদানের পর থেকে তিনি তার সততা ও দক্ষতায় পুলিশি সেবাকে জনকল্যাণে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়ার মাধ্যমে পাল্টে দিচ্ছেন ত্রিশালের চিত্র। তার নেতৃত্বে পুলিশের অভিযানে কমেছে সন্ত্রাস, অস্ত্রের ঝনঝনানি, মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, বাল্যবিবাহ, কিশোর অপরাধসহ নানা ধরনের অপরাধ। বেড়েছে সেবার মান। সেইসঙ্গে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বেড়েছে। বিশেষ করে মাদকের উপর জেহাদ ঘোষণা করেছেন ওসি। মাদকরোধে অভিযানের সঙ্গে বেড়েছে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ওয়ারেনভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার ও মামলার সংখ্যা। অভিযানের কারণে গা ঢাকা দিচ্ছে চিহ্নিত মাদক কারবারি ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা । অনেকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। কারবারিরা নতুন কৌশলে মাদকদ্রব্যের কারবার শুরু করলেও কঠোর নজরদারিতে তা ধরা পড়ছে থানা পুলিশের কাছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, ত্রিশালে ওসি হিসাবে ফিরোজ হোসেন এর মতো অভিজ্ঞ কর্মকর্তার দায়িত্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ওসি ফিরোজ হোসেন ত্রিশালবাসীকে গুজবে কান দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বর্বর প্রবণতা থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন-পাশবর্তী ভালুকায় গুজবকে গুরুত্ব দেওয়ায় ফলে দীপু দাসকে হত্যা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অশান্ত করা হয়েছে। নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছে কিছু দুষ্কৃতকারীরা । আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় এমন সব ধরণের বেআইনি কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করার কথাও জানিয়ে তিনি যে কোনও তথ্য ও সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগের পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানান।
এছাড়াও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পুর্ববর্তী, নির্বাচন কালীন ও নির্বাচন পরবর্তী যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ, পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনেও তিনি থানার সকল পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুত করছেন যেনো সুষ্ঠু এবং শান্তিপুর্ণ পরিবেশে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সকলের সহযোগীতাও প্রত্যাশা করেন ওসি ফিরোজ হোসেন।।
ওসি মোঃ ফিরোজ হোসেন এর অন্যতম গুণ হলো—তিনি জনগণের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আইনগত সীমার মধ্যে থেকে সমস্যার দ্রুত সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করেন। থানায় অভিযোগ গ্রহণ থেকে শুরু করে তদন্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এলাকায় অপরাধ দমনে তিনি নিয়মিত টহল জোরদার, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান এবং কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই থানার পরিবেশ আরও শৃঙ্খলাপূর্ণ হয়েছে এবং পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমে এসেছে। একজন দক্ষ ও মানবিক অফিসার হিসেবে ওসি মোঃ ফিরোজ হোসেন ত্রিশালবাসীর আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। আগামী দিনে তার দক্ষ নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবায় তাঁর এই নিষ্ঠা অব্যাহত থাকলে ত্রিশাল থানা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।
