নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বরিশালের হিজলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাউরিয়া বন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বরের মালামাল ও নগদ টাকা ফিল্মি স্টাইলে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গত তিন দিন আগে মুলাদী বন্দর থেকে কাউরিয়া বন্দরে মালামাল নেওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা নেয়নি পুলিশ। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মুলাদী বন্দর থেকে ৫৫ বস্তা সুপারি ক্রয় করে একটি মিনি ট্রাকে করে কাউরিয়া বন্দরের গোডাউনে নিয়ে আসছিলেন ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম। ট্রাকটি কাউরিয়া বাজারের ভেতরে প্রবেশ করা মাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে হারুন ফকির নামের অপর এক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে সাইদুল ফকির, মাইদুল ফকির, সাইফুল ফকির, ইমরান ও লিমন শিকদারসহ ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী ট্রাকটির গতিরোধ করে।ট্রাকচালক ছিন্টু জানান, “বাজারে ঢোকার সাথে সাথেই তারা আমার গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে চাবি কেড়ে নেয়। এরপর আমাকে চড়-থাপ্পড় মেরে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে মালামালসহ ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।গাড়িতে থাকা ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম জানান, ট্রাকে থাকা ৫৫ বস্তা সুপারি ছাড়াও তার কাছে থাকা পূবালী ব্যাংক থেকে উত্তোলনকৃত নগদ ৬ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা এবং জে-মাই গ্যাস কোম্পানির আরও ৭৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। ঘটনার তাৎক্ষণিকতায় মালিক দেলোয়ার মাতুব্বরকে জানানো হলে তিনি ৯৯৯-এ কল করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে হিজলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করলেও মালামাল বা টাকা উদ্ধার করতে পারেনি।
এই বিষয়ে বাজার কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান খান সজল বাজার কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বেপারীর সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন আমরা তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয় ট্রাক থেকে মাল নামিয়ে নেওয়ার বিষয় সহ নিয়ে বসেছিলাম কোন প্রকার তাদেরকে সমঝোতা করা যাচ্ছে না এবং তারা বাজার কমিটির কোন পরামর্শ মানতে রাজি না। ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও হিজলা থানা পুলিশ এখনো মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বর। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে আমার মালামাল ও নগদ টাকা লুট করল, অথচ থানায় মামলা করতে গেলে আমাকে কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমি দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকায় ব্যবসা করছি, এমন নিরাপত্তাহীনতায় আমরা আতঙ্কিত।
এ বিষয়ে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সোলায়মান জানান, “উভয় পক্ষ একে অপরের নিকটাত্মীয়। তাদের অভ্যন্তরীণ কোনো দ্বন্দ্বের কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমি তাদের সুবিধার্থেই বরিশাল কোর্টে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। এই ব্যাপারে বাজারের ব্যবসায়ী হারুন ফকিরের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন আমার ভাইয়ের ছেলে সাইদুল এবং দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বর আমার ভগ্নিপতি তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ী লেনদেন করেছেন সেক্ষেত্রে সাইদুল কিছু টাকা পাবে দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বরের কাছে তাই দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বরের মালামালের ট্রাক আটকে দিয়ে মালামাল রেখে দিয়েছে সেখানে আমার কোন কিছু বলার নেই ।
বর্তমানে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের খোয়া যাওয়া মালামাল ও নগদ টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
