আব্দুল্লাহ আল মামুন
হরিণাকুণ্ড
ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডুতে হঠাৎ বৃষ্টিতে বৈরী আবহাওয়া দেখা দিয়েছে এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।শনিবার ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলেছে বৃষ্টি তাতে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথমে দিকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হলেও গভীর রাতে তা ভারী বৃষ্টিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়তে থাকে আজ স্বাভাবিকের রূপ নেয় । হঠাৎ বৃষ্টিপাতের কারণে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়াই বাতাসে কলাগাছ ভেঙে পড়েছে।
কৃষিবিদদের মতে, বৃষ্টি হলে ফসল উৎপাদনে ক্ষতি হয়। বিশেষ করে মাটির নিচে যেসব পণ্য উৎপাদিত হয় যেমন-মুখী কচু, পিঁয়াজ, আদা, হলুদ ফসলের উৎপাদন কম হবে। বৃষ্টির পানি মাটিতে শুষে নেয়। মাটির শুষে নেওয়া পানি ফসলের গায়ে লেগে উৎপাদিত ফসলে পচন ধরে।
হরিনাকুন্ডু উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা দৈনিক সংগ্রাম প্রতিনিধিকে জানান, বৃষ্টির কারণে আগাম সবজিতে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে যেমন কালাই,ফুলকপি,বাঁধাকপি, পেঁপে, গ্রীষ্মকালীন পিয়াজ , মরিচ, বেগুন, শসা, পটল,টমেটো ইত্যাদি। পাতাপোড়া রোগ, পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিবে। হরিনাকুন্ডু বাসীর প্রধান চাষ ধান ও পান। বেশির ভাগ নিচু জমি গুলোর ধান বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে। অনেক পানের বরজে পানি উঠেছে,এতে গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা মনে করছেন কৃষকেরা। অনেক কৃষকের আখ বাতাসের গতি বেশি থাকায় মাটিতে নূয়ে পড়েছে, এতে অনেক কৃষক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অনেক কৃষকের জন্য বিপদজনক বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে গো-খাদ্যের তীব্র সঙ্কটও দেখা দিতে পারে। গত পরশুদিন থেকে আজ ২টা পর্যন্ত ৫০-৬০মিঃ গতিতে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে বৃষ্টির কারণে ১৪-১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর পর্যন্ত লোকজন ঘর থেকে বাইরে প্রয়োজন মেটাতে বের হতেই পড়েন নানা সমস্যায়। কেউ কেউ আবার প্রয়োজনের তাগিদে ছাতা নিয়ে কাজে বের হয়েছেন।
শুধু তাই নয়, হরিনাকুন্ডুর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ সহ বিল্ডিং এর বারান্দায় পানি উঠে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না।
