গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারসহ সাত দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটি। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি গণেশ মুরমু বলেন, গত ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমিকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের নির্দেশে হত্যাকাণ্ডের মতো নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটে। সাঁওতাল-বাঙালির ন্যায্য অধিকার ও দাবি না মেনে সে সময়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রমেশ টুডু, শ্যামল হেমব্রম ও মঙ্গল মার্ডি নামে তিন সাঁওতালকে হত্যা করা হয়। এ সময় শতাধিক সাঁওতাল-বাঙালি আহত হন। ওই ঘটনায় মামলা হলেও সরকারি দলের প্রভাবে মামলার কার্যক্রম শম্ভুক গতিতে এগোতে থাকে। ঘটনার আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়নি।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে সাঁওতাল হত্যার বিচারসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার যেহেতু রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, সেহেতু তাদের প্রত্যাশা বর্তমান সরকার সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। বর্তমানে তারা নানা আশঙ্কার মধ্য দিয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন। তাদের পৈতৃক জমি দখলের জন্য গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মুকিতুর রহমান রাফি, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাকিল আলম বুলবুল সরকারকে ভুল বুঝিয়ে তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড নির্মাণের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করে বিভ্রান্ত করছে। একই সঙ্গে তারা আবারও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করছেন। তারা আসামিদের গ্রেপ্তারসহ সব ষড়যন্ত্রের প্রতিকার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহসভাপতি সুভাষ মুরমু, আজমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন শেখ, প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সাবু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম, আদিবাসী নেতা টাটু টুডু, আমিন হেমব্রম, জামিল হেমব্রম, বিমল বেশরা, মায়রা হেমব্রম, স্বপন সরেণ, থমাস হেমব্রম, রুমিলা মিসকু প্রমুখ। এতে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক সদস্য অধ্যক্ষ ছামিউল আলম রাসু।

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর বিরোধপূর্ণ সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ইক্ষু খামারের জমিতে চিনিকল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আখ কাটতে গেলে সাঁওতালরা তাদের পূর্বপুরুষদের জমি দাবি করে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে তিন সাঁওতাল নিহত হন। একই সঙ্গে সাঁওতালদের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট করা হয়। সেই থেকে বিচারসহ জমি ফেরত দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন সাঁওতালরা। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওযা সম্ভব হয়নি।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *