স্টাফ রিপোর্টার
মোঃ নাসিরুদ্দিন

রাজশাহী অঞ্চলে আমন মৌসুমে ধানের চারা রোপণ ও পরিচর্যা ব্যস্ত সময়ে সার সংকটে নতুন দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। এক ডিলারের দোকানে সার না পেয়ে অন্য ডিলারের কাছে ছুটছেন কৃষকরা। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চাহিদার তুলনায় মিলছে না সার, আবার কোথাও মিলছে না মেগা বা খুচরা সারও। এই সুযোগে কিছু অসাধু ডিলার সরকারি দামের চেয়ে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দরে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
সার সংকট ও ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ:
তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউপির কৃষক সাইদুর রহমান, জয়নগর গ্রামের ডিলারের দোকানে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ডিলারদের কাছে থেকে সার কিনতে পারছেন না। গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদ ডিএপি সার না পাওয়ার কথা জানান। একই উপজেলার কেল্লাশহরের কৃষক শরিফুল ইসলাম অনেক এলাকার ডিলারের কাছে সার না পেয়ে নানা জায়গায় ছুটছেন। তিনি জানান, শুধু ইউরিয়া দিলে ধানের ফলন ঠিক রাখা কঠিন।
অন্যদিকে গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের নজরুল ইসলামের দোকানে সারের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দেওপাড়া গ্রামের কৃষক আল্পনা জানান, সকাল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। জহুরপুরী গ্রামের কৃষক বালু ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। নিজের এলাকার ডিলারের কাছে ইউরিয়া না পেয়ে দেওপাড়া বাজার থেকে ২০ কেজি সার নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা নিতে পারেননি। চারঘাট উপজেলার এক ইউপি ও বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিলারদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিলাররা পরিচিত বা প্রভাবশালীদের আইডি কার্ড নিয়ে সার দিলেও সাধারণ কৃষকরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরছেন।
নির্ধারিত ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান:
কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন। যেখানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার সরকারের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী বিক্রির কথা, সেখানে অনেক জায়গায় অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজশাহীতে ইউরিয়ার বরাদ্দ ৭ হাজার এবং টনের বিপরীতে পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৭২৫ টন। ডিএপি ও টিএসপির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে আসন্ন আমন উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *