নিউজ ডেস্ক
পঞ্চগড়ের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে দিদারছে চলছে ফসল মাড়াই ও গৃহস্থালির কাজ। ফলে সড়কগুলোতে চলাচল করা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া এসব কাজের জন্য সড়কে বেড়ে চলেছে দুর্ঘটনা। কৃষকদের সচেতন করেও রাস্তাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না প্রশাসন।
ধান, গম, তিল, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল কেটে এনে স্তূপ করা, এরপর মাড়াই শেষে খড় শুকানোর কাজ হতো কৃষকের বাড়ির আঙিনায় বা উঠোনে। কিন্তু এখন এসব কাজ হচ্ছে ব্যস্ততম মহাসড়কের ওপর। পঞ্চগড় বাংলাবান্ধা মহাসড়কটিকে মহাসড়ক না বলে এখন কৃষকের চাতাল বলা যায়। এশিয়ান হাইওয়ে নামে পরিচিত এই মহাসড়কেই শুধু নয় পঞ্চগড়ের গ্রাম-গঞ্জের পাকা রাস্তাগুলোর দুই পাশ দখল করে হাজার হাজার কৃষক এখন ব্যস্ত ফসল মাড়াই আর শুকানোর কাজে। ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে চলাচল হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিনিয়তই বাড়ছে দুর্ঘটনা।
প্রতি বছর বিভিন্ন ফসলের এই মৌসুমে মহাসড়কের পাশের বসতবাড়ির লোকজন যে যার মতো সড়ক ব্যবহার করছে। ক্ষেত থেকে ধান কেটে এনে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে সড়কের ওপর। পরে সড়কের একটা জায়গা দখলে নিয়ে মাড়াই কল বসিয়ে দেদারসে চলছে মাড়াইয়ের কাজ। আর এ অবস্থায় সড়কের অর্ধেক অংশে ধান শুকানো ছাড়াও বিশাল খড় সড়কের ওপরেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে রোদে শুকানো হয়।
পুরুষের পাশাপাশি বাড়ির নারী ও শিশুরা বসতবাড়ির উঠান ছেড়ে সড়কে এসে এ কাজটি করছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। এ কাজটির পাশাপাশি তারা রান্নার কাজে ব্যবহারের লকড়ি, শুকনো মরিচ ও অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস এনে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করছে সড়ক মহাসড়ককে। এসব নারী-পুরুষ সড়কে গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত থাকলেও দ্রুতগামী যানবাহনের দিকে দিকে লক্ষ থাকে কম। এতে যান বাহনের চালকেরা পড়েন বিপাকে।
গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই জেলায় এসব কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে। অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তারা উদ্যোগ নিলেও, তা মানছেন না কৃষকেরা। সচেতনতার অভাবে এসব কাজে সড়ক ব্যবহার করছেন তারা।
নিজেদের প্রান্তিক দাবি করে সুবিধা ভোগীরা বলছে, বাড়িতে অনুকূল জায়গা না থাকায় বিশেষ সুবিধা নিতেই তারা এই মহাসড়ক ব্যবহার করছে। তেঁতুলিয়া উপজেলার খয়খট পাড়া এলাকার জহুরা বেগম বলেন, বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় ক্ষেতের মরিচ সহ ধান, গম শুকানোর কাজ ছোট থেকেই করে আসছি। আমরা রাস্তার এক সাইড ব্যবহার করি, তাতে তো কোনো সমস্যা নেই।
সদর উপজেলার অমরখানা এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে এসব কাজ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাড়তি কিছু সুবিধার জন্য, আমরা মহাসড়কে বিভিন্ন ফসল শুকানোর কাজ করে থাকি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বাড়িতে জায়গা না থাকায় এই কাজটি করতে হয়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম বলেন, মহাসড়কের দু’ধারে যে হারে সাধারণ মানুষ গৃহস্থালি কাজে সড়ক ব্যবহার করছে, তাতে করে প্রতিদিন মহাসড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার।
জেলা মটর পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী বলেন, আন্তসড়ক, মহাসড়কের সব অংশ জুড়েই বসছে মৌসুমি ফসলের মেলা। অসচেতন মানুষের কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে দোষ হয় পরিবহন শ্রমিকের, জেল-জরিমানসহ আর্থিক মাশুল টানতে হয় আমাদের। অথচ যারা আইন মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে নেই কোনো ব্যবস্থা। প্রশাসন চাইলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
প্রতিনিয়তই মহাসড়কে টহল দিয়ে জনগণকে সচেতনের বিষয়টি অব্যাহত রাখা হচ্ছে জানালেন ভজনপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. কুদরতি খুদা মিলন বলেন, বাংলাবান্ধা বন্দর থেকে ভজনপুর পর্যন্ত মহাসড়ক এবং আন্তসড়ক সমূহে সকল প্রকার কৃষি গৃহস্থালি কাজ বন্ধের জন্য, প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে জরুরি সভা ডেকে বিষয়টি কঠোরভাবে বন্ধের ব্যবস্থার গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আনিস বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জনসাধারণকে সচেতন করেও তেমন কোন ফলাফল মিলছে না। দুর্ঘটনা এড়াতে জেল-জরিমানা ছাড়া বিকল্প নাই।
