স্টাফ রিপোর্টার
গত ৩ মার্চ ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ার সংসদ সদস্য আব্দুল মালেক সরকার সংসদ অধিবেশনে ২০০৩ সালে সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় কয়েকটি মামলা উল্লেখ্য করে বক্তব্য প্রদান করায় স্থানীয় রাজনীতি ও জন সাধারণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে। জন্ম নিয়েছে বিভিন্ন প্রশ্নের। পরে বিষয়টি সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ফুলবাড়ীয়া উপজেলার একজন বাসিন্দা গত ১৯ জুন তথ্য আইনে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে একটি আবেদন করেন।
জাতীয় সংসদে, সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মালেক সরকারের সম্পূর্ণ বক্তব্য
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, মাননীয় স্পিকার আপনাকে ধন্যবাদ, মহান সংসদে মহামান্য রাষ্ট্রপতি তার মূল্যবান ভাষেনের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনার কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে। মাননীয় স্পিকার, আমার বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে। সেই সাথে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে ঘাতকের ডিমুর আঘাতে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেসা মুজিবসহ তার সকল সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আরো স্মরণ করছি স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সর্বোচ্চ আত্মতেগকারী মা বোনদের প্রতি সেই সাথে স্মারণ করছি জাতীয় ৪ নেতা গণতান্ত্রিক আনন্দোলনে সকল শহীদের প্রতি। আরো ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৫ বারের প্রধানমন্ত্রী স্মাট বাংলাদেশ রূপকার মানবতার মা, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অবাধ এবং সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজন করার জন্য এবং আমাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য অন্তর্ভোক্ত করার জন্য। মাননীয় স্পিকার, আমি আব্দুল মালেক সরকার ১৫১ ময়মনসিংহ-৬। ২০০৩ সালে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় আমাকে ৪টি মামলা দিয়ে যখন গ্রেফতার করা হলো আমি জেল খানা যাওয়ার ৪ দিনের মধ্যেই আমার কাছে ঐ জেল খানা গেইট থেকে একটা স্লিপ আসলো আমাকে আরো ৪টি মামলা দেয়া হয়েছে ৮টি মামলার আমি তখন জেল খানায় আটক ছিলাম ইতি মধ্যেই ১০ দিন না যেতেই ঐ কোহিনুর এসপি আইনুল হক ওসি আমার সাথে তার আমার অভিভাবকের মাধ্যমে অনেক দাবী দাওয়ার মাধ্যমে তাদের সাথে রফা দফা না হওয়ার কারণে আমাকে ঐ ময়মনসিংহ জেল খানা থেকে এই কেন্দ্রীয় কারাঘরে ডান্ডা বেড়ী পরিয়ে আমাকে স্থানান্তর করা হলো। মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আজকে আইনমন্ত্রী এখানে উপস্থিত আছেন আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত আছেন আমার কি অন্যায় ছিলো আমি ৯টি মাস এই ডেন্ডা বেড়ি অবস্থায় কেন্দ্রী কারাঘরে আমি কারা বরণ করেছি। আমার একটি মাত্র অপরাধ ছিলো আমি বঙ্গবন্ধুর আর্দের সৈনিক, শেখ হাসিনার কর্মী। এছাড়াও আর জীবনে কোন দিন আর কোন অপরাধের সাথে জড়িত ছিলাম না। একে একে ৩৫ টা মামলা দেওয়া হইলো। আশুলিয়া থানার মামলা, সাভার থানার মামলা, টঙ্গী থানার মামলা, ঢাকা কোতোয়ালী থানার মামলা। আমি ৩৫টি মামলা ১২ মাস এই কেন্দ্রীয় কারাঘরে কারা বরণ করেছি। ডান্ডা বেড়ি পরতে পরতে আমার দুই পায়ে ঘা হয়ে ছিলো। শেষ পর্যন্ত আমার সকল মামলার জামিন হওয়ার পরেও আমাকে ঐ জরুরি যত আইনে ডিরেনশন দিয়ে আমাকে ঐ কেন্দ্রীয় কারাঘরে আটকে রাখা হয়েছিলো আমার ঐ আটকিয়ে রাখাই শুধু শেষ নয় ঐ কোহিনুর এসপি আজকে বাংলাদেশে কোথায় আছে আমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী তাদের কাছে অনুরোধ তাকে বাহির করে আও আইনের আওতায় তাদেরকে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। মাননীয় স্পিকার আমি বলতে চাই ঐ ২১শে আগস্ট গ্রেনেট হামলায় আমি ঐ খানে উপস্থিত ছিলাম। আমি দেখেছি ঐ লিলা খেলা ধংসাপ্ত কেমন করে ঐ জামাত বিএনপিরা কি করতে পারে কি অবস্থায় কি করে ছিলো হাশরের ময়দানের মতো ছোটা ছোটি করতে ছিলো। আইভি রহমান সহ ঐ জাগায় ২৪ জন মানুষ নিহত হয়েছিলো। আমার সাথে ছিলো সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তার পিএস ফজলে রাব্বী সহ আমরা এয়ামেনি হোটেলের কোনায় আমরা দাড়িয়ে ছিলাম। অল্পের জন্য আমাদেরকে শুধু নয় আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আল্লার অশেষ রহমতে আমাদের মধ্যে বেঁচে আছে। ঐ দিন যদি আমাদের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেচে না থাকতো আমরা মনে হয় জেল খানা শুধু নয় আমাদের লাশ আজকে মাটির সাথে মিশে যেতাম মাননীয় স্পিকার আমাকে আর ১টা মিনিট সময় দিতে হবে আমি ফুলবাড়ীয়া উপজেরার ব্যপারে আমার জনগনের ব্যাপারে ২ডা মিনিট কথা বলতে চাই। মাননীয় স্পিকার আমার ফুলবাড়ীয়া উপজেলা ১৫১ ময়মনসিংহ ৬ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে ৪ঠা মে আমার ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় হেলিকপ্টার যোগে আমার ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় গিয়ে ছিলো তখন একটি ঘুর্নিঝড়ে ধংসাপ্তে পরিনত হয়ে ছিলো তখন জাতির পিতা, সৈয়দ নজরুল, রফিক উদ্দিন ভ’ইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতা স্থানীয় নেতা অনেক নেতৃবৃন্দ সেই বঙ্গবন্ধুর সাথে ঐ ৩ কিলো রাস্তা ঐ ঘুর্ণিঝড় এলাকা উনি পরিদর্শন করে ছিলেন এবং সংক্ষিপ্ত আকারে উনি বক্তব্য রেখে ছিলেন যে জাগাটি বসে সেই জাগাটু আজকে ৫০ বছরেও জাতির পিতার নামে ঐ বঙ্গবন্ধু রাস্ত টুও এখনো হয় নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান নমিনেশন দিয়ে ছিলেন আমি যখন উপজেলা চেয়ারম্যানে স্থানীয় সরকারের অর্থায়নে ২ কোটি টেহা দিয়ে ঐ হেরিনবন এসবিপি রাস্তা করে দিয়েছি। আমার এলাকা ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ৬ লাখ মানুষের দাবী ঐ রাস্তা টুকু ঢালাই করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর জন্য এবং বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা যে জায়গায় বসে ঐ সংক্ষিপ্ত আকারে বক্তব্য রেখে ছিলেন সেই জায়গা টুকু একটি মোড়াল নির্মাণ করে আমার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার মানুষের আশা আকাঙ্খা প্রতিফলক ঘটাবেন। মাননীয় স্পিকার সেই আহবান রেখে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *