সামদানি হোসেন বাপ্পী
ময়মনসিংহ
_
জ্বালানি ঘাটতিতে ১৩ মেগাওয়াট ঘাটতি, নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই – ভোগান্তিতে শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থী_

তীব্র গরমের মধ্যে টানা এক সপ্তাহ ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহ নগর ও জেলার জনজীবন। দিন-রাত বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ নগরবাসী। বিশেষ করে রাতে কয়েক মিনিট পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা একেবারে থমকে গেছে।

নগরে চরম দুর্ভোগ চরপাড়া, মাসকান্দা, বাঘমারা ,
নওমহল, নতুন বাজার, গাঙ্গিনাপাড়া, সানকিপাড়া, আকুয়াসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। কোথাও ৩০ থেকে ৫০ মিনিট, আবার কোথাও এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসায়ীরা। তীব্র গরমে ঘুম নেই, পড়াশোনা ব্যাহত, আর প্রিন্টিং, ফটোকপি, ক্ষুদ্র শিল্পের কারখানা বন্ধ প্রায়।

চরপাড়া বাসিন্দা জুয়েল আহমেদ, বলেন, _“গত কয়েকদিন ধরে রাতে এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাচ্ছে যে ঠিকমতো ঘুমানোই যাচ্ছে না। ছোট শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”_

আকুয়ার বাসিন্দা খালেক বলেন, _“লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরে থাকা খুবই কষ্টকর। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।”_

কেন এই লোডশেডিং?
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), ময়মনসিংহ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ (উত্তর)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান জানান, জ্বালানির অভাবে বিআর পাওয়ার জেন ও আরপিসিএল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় ময়মনসিংহ গ্রিডে চাহিদা মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, “বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪৯ মেগাওয়াট, সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৩৬ মেগাওয়াট। প্রায় ১৩ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে বাতিত্রকল ও আকুয়া উপকেন্দ্রের আওতাধীন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং বাধ্যতামূলক।”

জেলার চিত্র আরও খারাপ
ভালুকা উপজেলা সদর ও গ্রামাঞ্চলেও একই অবস্থা। একবার বিদ্যুৎ গেলে দীর্ঘ সময় পর ফেরে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রামের মানুষের ভোগান্তি চরমে। ক্ষুদ্র শিল্পের উৎপাদনও বন্ধ।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্রে জানা যায়, তাদের ৫ লাখ ২০ হাজার গ্রাহকের জন্য চাহিদা ২৯০ মেগাওয়াট হলেও পাচ্ছে ২১০ থেকে ২১৫ মেগাওয়াট। ভালুকা ও গফরগাঁওয়ে চাহিদা ১৩০ মেগাওয়াটের বিপরীতে মিলছে মাত্র ৬০-৬৫ মেগাওয়াট।

পবিস-২ এর জেনারেল ম্যানেজার আকমল হোসেন বলেন, “চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং করতেই হচ্ছে।”

ভালুকা বিপিডিবি কার্যালয় জানায়, ৩৮ হাজার গ্রাহকের জন্য চাহিদা ২০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১২-১৩ মেগাওয়াট। নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, “চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং এড়ানোর সুযোগ নেই।”

নাগরিকদের দাবি
তীব্র গরমে বিদ্যুতের এই সংকট দ্রুত নিরসন এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ চেয়েছেন ময়মনসিংহের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *