মোঃ নাসিরউদ্দিন
সিনিয়র সটাফ রিপোর্টার

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের নাপিতপাড়া (জলিঙ্গি) বিল গোপনে সাবলিজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। তাঁদের অভিযোগ, সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সদস্যদের না জানিয়ে বিলটি অন্যের কাছে সাবলিজ দিয়েছেন। ফলে বিলে মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় ২০০ মৎস্যজীবী পরিবার।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নাপিতপাড়া গ্রামের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিলটি পুনরায় সমিতির নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দিতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের নাপিতপাড়া (জলিঙ্গি) বিলের খাস জমির পরিমাণ ৯ দশমিক ৩৬ একর। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিলটির আয়তন প্রায় ২০ একরে বিস্তৃত হয়। ১৪৩১ থেকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৮৭৫ টাকায় বিলটি নাপিতপাড়া ও পার-কুলিহার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে ইজারা দেয় উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি।
মৎস্যজীবীদের দাবি, লিজ পাওয়ার পর সমিতির সদস্যদের চাঁদার অর্থে বিলে মাছ চাষ করা হয়। পাশাপাশি এলাকার অন্তত ২০০ মৎস্যজীবী পরিবার ওই বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। সমিতির সদস্যদের প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আমানত এবং দুই বছরের মাছ চাষের লভ্যাংশ সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের কাছে রয়েছে বলেও তাঁদের অভিযোগ।
মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করে বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমের জন্য বিলের বিভিন্ন কুয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মজুত রাখা হয়েছিল। সেই মাছসহ বিলটি সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সদস্যদের অজ্ঞাতে কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিলন হোসেনের কাছে সাবলিজ দেন।
মৎস্যজীবীদের ভাষ্য, সাবলিজ নেওয়ার পর মিলন হোসেন বিলটির চারপাশ নেটজাল দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন। এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা আর বিলে মাছ শিকার করতে পারছেন না।
নাপিতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনজুর আলী বলেন, ‘এলাকার মৎস্যজীবীদের স্বার্থে সমিতির নামে বিলটি লিজ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *