ময়মনসিংহে “জাতীয় মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আর্থিক প্রক্কালনসহ কর্মপরিকল্পনা-২০২৫” বাস্তবায়ন ও অবহিতকরণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন-এর শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, এনডিসি। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের পলিসি সাপোর্ট অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কৌশলপত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে যুগ্মসচিব বলেন, জাতীয় পর্যায়ে গৃহীত এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আর্থিক প্রাক্কলনসহ পরিকল্পিত কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনায় টেকসই অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি শুধু একটি কৌশলগত দলিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এটি কিশোরী ও নারীর স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং মানবাধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদনক্রমে “জাতীয় মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র নীতি ২০২১” মুদ্রণ ও প্রকাশ করে অংশীজনদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়েও তা আয়োজন করা হয়েছে।
সভাপতি বলেন, কৌশলপত্র প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এর কার্যকর বাস্তবায়নই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যেই আজকের কর্মশালার আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাতীয় মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা (এমএইচএম) কৌশলপত্র বাস্তবায়নের জন্য প্রণীত প্রাক্কলিত কর্মপরিকল্পনাকে একটি বাস্তবভিত্তিক রোডম্যাপ হিসেবে উল্লেখ করে এর সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, স্বাস্থ্যকর্মী, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন। তারা কৌশলপত্র বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।
