স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহ সদরের ঘাগড়া ও ভাবখালী ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে বাসিন্দাদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হামলাকারীরা লুটে নিয়েছে ১৬টি ঘরের দরজা জানালাসহ নিরীহ মানুষের বিভিন্ন মালামাল। এতে হামলাকারীদের ভয়ে নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।

গত ৬ আগষ্ট ঘাগড়া ইউনিয়নের ভাটি ঘাগড়া এলাকায় অবস্থিত আশ্রয়ন প্রকল্পে বেলা অনুমান সাড়ে ১০টায় এবং এর আগে ২ রা আগষ্ট রাত সাড়ে ৮টায় এ ঘটনায় ঘটে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ১ বছরে বেশি সময় ধরে ভাটি ঘাগড়া এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৮টি ঘরে ভাবখালী ইউনিয়নে ভাবখালী তালতলায় এলাকায় ৮ টি ঘরে দুঃস্থ অসহায় পরিবার বসবাস করে আসছিলো। শেখ হাসিনার পতনের পর গত ৬ আগষ্ট ভাটি ঘাগড়া এলাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পে স্থানীয় আঃ আজিজ মন্ডল,রেজাউল ইসলাম, মানিক মিয়া,রণি মন্ডল,মামুন মিয়া,মাহবুব মিয়ার নেতৃত্বে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালিয়ে তাদের সে জায়গা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হুমকি প্রদান করে । এতে তারা প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে এবং তাদের হুমকিতে ঘরগুলো ছেড়ে চলে যেতে অস্বীকার করলে হামলাকারীরা তাদের উপর আক্রমণ করাসহ আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে ভাংচুর ও লুটপাঠের তান্ডব চালায় তারা। ভাঙচুর ও লুটে নেয়া হয় ঘরের দরজা, জানালা। এব্যাপারে ঘাগড়া ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ভাবখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আরেকটি অভিযোগে জানা যায়- এর আগে গত ২রা আগষ্ট ভাবখালী তালতলা এলাকায় অবস্থিত আশ্রয়ন প্রকল্পে জায়গা নিজের বলে দাবী করে আশ্রয়ণের ৮টি ঘর দখলে নিতে ঘরগুলোতে থাকা বাসিন্দাদের ঘর ছেড়ে দেওয়ার ভয় ভিত্তি ও হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিলেন স্থানীয় হাবুল্লাহ,আরিফ মিয়া,এম এ শাদ মিয়া,রত্না বেগম,সিদ্দি মিয়াসহ তাদের বাহীনীরা। এনিয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা আয়ুব আলী প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২রা আগষ্ট রাত সাড়ে ৮টায় অভিযুক্তদের নেতৃত্বে একটি বাহিনী। এসময় তারা আশ্রয়ন প্রকল্পের ৮ঘরে হামলা, ভাংচুর লুটপাটের তান্ডব চালায় এবং একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে প্রকল্পের বাসিন্দার ভয়ে আশ্রয়ণের ঘর ছেড়ে আশ্রয়হীন হয়ে ঘর ছাড়া হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এব্যাপার প্রকল্পের বাসিন্দা আয়ুব আলী বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাবখালী তালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৮টি ঘরের মধ্যে ৬টিরই দরজা কিংবা জানালা নেই। ভাঙচুর করা বিভিন্ন মালামাল ও ক্ষত দেখা গেছে দেয়াল জুড়ে। বাসিন্দারা হামলাকারীদের ভয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ঘরগুলোকে ওরা গরুর গোয়াল ঘর হিসাবে ব্যবহার করছে। এতে প্রকল্পের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমি হলেও ওই জমি নিজেদের দাবি করে ঘর ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলো স্থানীয় অভিযুক্ত প্রভাবশালীরা। তারাই ওই হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

ভাটি ঘাগড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দা জানান, আমাদের একেবারে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছিলো। পরে যে যেভাবে পারছি পালাইছি। আসবাপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘরের দরজা জানালাও ভেঙে নিয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবো এখন মাথা গোঁজার জায়গা নেই। ভাবখালী তালতলা আশ্রয়ন প্রকল্পের একাধিক বাসিন্দারা অভিযোগ করে আরও কয়েকজন জানান, কিছু রাখা হয়নি সব নিয়ে গেছে। আমরা এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম প্রিন্স জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি। ঘাগড়া ইউনিয়নে ০৮ টি ঘর গত ৬ আগস্ট গুড়িয়ে দিয়ে দখল করেছিল কিছু স্থানীয় প্রভাবশালীরা । পরে তাদের নামে মামলা হয়েছে। মামলার আসামী ০১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর দিকে ভাবখালী ইউনিয়নের একটি ঘরে আগুন দেয়ার বিষয়েও কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলার আবেদন করা হয়েছে। জমিসহ ওই ঘরগুলো দুঃস্থ মানুষের নামেই দলিল করা। এসব অসহায় দরিদ্র মানুষেরা যেন নিরাপদ থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *