বুলবুল আহমেদ
নেত্রকোনা

কংস নদের শান্ত স্রোতে, অবারিত সবুজ গাছপালার নিবিড় ছায়ায় শহরের কোলাহল মুক্ত নির্মল আলো-বাতাস যেন প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের চোখে নতুন করে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন এঁকে দিয়ে যাচ্ছে। সেই স্বপ্নের ঠিকানা নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার আসমা ইউনিয়নের গুমুরিয়ায় গড়ে উঠেছে প্রকৃতির সৌন্দর্যে ঘেরা, অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা, দৃষ্টিনন্দন মনসুর আহমাদ মহিলা কলেজটি ।যেখানে শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং প্রকৃতির শান্ত কোমল পরশে পাঠ গ্ৰহনে আত্মবিশ্বাস ও নব উদ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বিদ্যাপিঠের ছাত্রী শিক্ষক ও সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মঢারীদের প্রান চাঞ্চল্য ফিরে পেতে সহায়ক হবে বলে সকলের অভিমত। কলেজটিতে শিক্ষার্থীদের আলোকিত ভবিষ্যতের বীজও রোপিত হবে বলে সমাজের এক শ্রেণীর বিজ্ঞ মহল দাবি করছেন।
২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি অল্প সময়ের মধ্যেই নারী শিক্ষার এক অগ্ৰনী ভূমিকা রাখছে ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে ১৯ জন দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকার আন্তরিক পাঠদানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণ করছে। কলেজে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাঠদান চলছে।
দুটি দৃষ্টিনন্দন একাডেমিক ভবন, বিস্তৃত খেলার মাঠ এবং কংস নদের পাড়ঘেঁষা মনোরম পরিবেশ যেন প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের নতুন উদ্দীপনায় ভরিয়ে তোলে। নদের তীরে শীতল বাতাস, পাখির কলতান আর প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য ক্লান্ত মনকে সতেজ করে, তারি পাশাপাশি বাড়িয়ে দেয় পড়াশোনার প্রতি তীব্র আগ্ৰহ ও একাগ্রতা।
কলেজের অধ্যক্ষ আতিক আহমাদ বলেন,
“প্রাকৃতিক পরিবেশে নেত্রকোনা জেলার একমাত্র মহিলা কলেজ হিসেবে মনসুর আহমাদ মহিলা কলেজ শিক্ষার্থীদের নিবিড় পরিচর্যায় পাঠদান করে আসছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। কলেজের প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ শেষের পথে এবং খুব শিগগিরই বহুতল একাডেমিক ভবনের কাজ শুরু হবে। পুরো ক্যাম্পাসে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস’ বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ আতিক আহমাদ।
স্থানীয় অর্ধশতাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, এমন একটি আধুনিক ও নান্দনিক মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তারা গর্বিত। তাঁদের মতে, এই প্রতিষ্ঠান এলাকার মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পথকে আরও সহজ ও নিরাপদ করেছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “কলেজে এলেই মন ভালো হয়ে যায়। কংস নদের শীতল বাতাস, ফুল, পাখি আর চারপাশের সবুজ পরিবেশ আমাদের পড়াশোনায় নতুন অনুপ্রেরণা জোগায়। এখানে পড়তে এসে মনে হয়, প্রকৃতিই যেন আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক।”
এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, কংসের পাড়ে দাঁড়িয়ে মনসুর আহমাদ মহিলা কলেজ আজ হয়ে উঠছে স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আলোকিত আগামীর ভবিষ্যত নির্মাণের এক অনন্য প্রতীক। প্রকৃতির সঙ্গে শিক্ষার এমন অপূর্ব মেলবন্ধন ভবিষ্যতের প্রজন্মকে জ্ঞান, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ করে তুলবে এমন প্রত্যাশাই করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *