বিশেষ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের পাতিলগাঁও গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের সময় মারিয়া আক্তার নামে দেড় বছরের এক শিশুর মাথায় আঘাতের অভিযোগ উঠেছে মইন উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী আসমা খাতুনের বিরুদ্ধে। ঘটনার এক সপ্তাহ পর, গত ১৯ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে মইন উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে ফুলপুর থানা পুলিশ। অপর অভিযুক্ত আসমা খাতুন পুলিশকে দেখে পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, মালিকানার অতিরিক্ত জমি দখলকে কেন্দ্র করে গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান মইন উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী আসমা খাতুন। ওই দিন ভোর থেকেই জমি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুরুতে মইন উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী আসমা খাতুন হুমায়ুন কবিরের রান্নাঘরে ভাঙচুর করেন। এরপর আসমা খাতুন হুমায়ুন কবিরের মূল বসতঘরের টিনের বেড়া এবং ভেতরের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করেন। ভাঙচুর চলাকালে ঘরের ভেতরে হুমায়ুন কবিরের দেড় বছরের মেয়ে মারিয়া আক্তার বিছানায় শুয়ে ছিল। ভাঙচুরের সময় আসমা খাতুনের হাতে মোটা লাঠি ছিল বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশুটি গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে শিশু মারিয়া অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এমআরআই রিপোর্ট অনুযায়ী, মারিয়া আক্তারের মাথার পেছনে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে তার শরীরে প্রচণ্ড খিঁচুনি হচ্ছে এবং অক্সিজেনের মাত্রা খুব কমে গেছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।
হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে মইন উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী আসমা খাতুন প্রতিবেদককে জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা হামলার অভিযোগ মিথ্যা। তাঁদের দাবি, হুমায়ুন কবির নিজেই তাঁর ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছেন এবং নিজের শিশুসন্তানকে নিজেই আঘাত করেছেন।
গ্রামবাসীরা প্রতিবেদককে জানান, হুমায়ুন কবিরের পিতা সুরুজ আলীর রেকর্ডীয় জমি মইন উদ্দিন ও আসমা খাতুন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। বিদ্যমান বিরোধ সমাধানে দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার আলোচনা ও মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও মইন উদ্দিনের পরিবার গ্রাম্য সালিশ মানেনি।
হুমায়ুন কবির জানান, এ ঘটনায় ফুলপুর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত মইন উদ্দিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসীর দাবি, শিশু মারিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
