মোঃ নাসিরউদ্দিন
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোর ও মোহনপুর—পাশাপাশি দুই উপজেলায় কৃষির দৃশ্যপট এখন ভিন্ন আমেজে মুখরিত। একদিকে তানোরে আমন ধানের ক্ষেতে রোগবালাইয়ের আক্রমণে ফসল রক্ষা নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী মোহনপুর উপজেলায় কৃষির বহুমুখী ব্যবহারের ফলে দেখা যাচ্ছে নতুন সম্ভাবনার আলো।
তানোরে আমন ধান রক্ষায় হতাশা ও পরামর্শের অভাব
তানোর উপজেলার মাঠজুড়ে স্বপ্নের সোনালি আমন ধানের শীষ আসার কথা থাকলেও তা এখন পচন ও পাতাপোড়া রোগের কবলে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কারেন্ট পোকার পর এবার পচন ও পাতাপোড়া রোগের আক্রমণে ধানের ক্ষেত নষ্ট হতে বসেছে। মাঠপর্যায়ে ফসল রক্ষায় বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক স্প্রে করেও কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না। এছাড়া এ সংকটময় সময়ে কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (বিএস) সরাসরি মাঠে গিয়ে বা অফিসে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রান্তিক চাষিরা।
অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
মোহনপুরে কৃষি বিপ্লব ও সম্ভাবনা
অন্যদিকে মোহনপুর উপজেলায় প্রচলিত ধান চাষের পাশাপাশি নতুন কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়া ও বিকল্প লাভজনক ফসল চাষে গতি এসেছে। সেখানে বস্তায় আদা চাষসহ বেশ কিছু উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় কৃষকেরা আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উভয় উপজেলাতেই রোগবালাই প্রতিরোধ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে সামগ্রিক ফলন বৃদ্ধি পাবে।
সমাধানের আশায় কৃষি বিভাগ
তানোর ও মোহনপুরের কৃষকদের এ সকল সংকট মোকাবিলায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সঠিক প্রযুক্তি প্রয়োগ, আধুনিক চাষাবাদ ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। দ্রুত মাঠপর্যায়ে কৃষি উপস্থিতি ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *