নিউজ ডেস্ক
ফরিদপুরে হিরু শেখ নামে এক বিএনপি সমর্থককে হত্যার অভিযোগে প্রায় ছয় বছর পর ইউপি চেয়ারম্যান সহ ১২ জনের নামে হত্যা মামলা হয়েছে।
মামলার বাদি হয়েছেন নিহতের ছেলে রুমন শেখ (২৪)।
তিনি সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের আইজুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোতোয়ালী থানান ওসি মো. হাসানুজ্জামান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট ফরিদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এক নম্বর আমলি আদালতে রুমন শেখ বাদি হয়ে হত্যার অভিযোগ আনেন। শনিবার (৩১ আগস্ট) ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় রুজু হয়।
ওই মামলায় আসামী হয়েছেন সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসান মিন্টু (৫০)।
মিন্টু ওই এলাকার মৃত হাবিবুর রহমান ফকিরের ছেলে।
এছাড়া তার অপর চার ভাইকেও মামলার আসামী করা হয়েছে।
তারা হলেন, মো. আলমগীর ফকির (৩৮), মো. জাহাঙ্গীর ফকির (৩২), মো. আলমাস ফকির (৪৩) এবং মোহাম্মদ হক ফকির (৫৫)।
এ মামলায় অন্যদের মধ্যে আসামী হয়েছেন, একই এলাকার মো. ইলিয়াস ফকির (৩০), মো. সাব্বির ফকির (৩২), মো. রফিক শেখ (৪০), মো. রশিদ শেখ (৬০), মো. বাদশা ফকির (৫০), মো. মুমতাজ বেপারী (৪৬) এবং মো. সেলিম বেপারী (৪৬)। এছাড়া অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে রুমন শেখ উল্লেখ করেন, আসামীরা আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে ত্রাস সৃষ্টি করতেন। আমার বাবা হিরু শেখ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে চলাফেরা করায় এবং ২০১৮ সালে বিএনপির প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়।
এরপর বিভিন্ন সময় হক্যার হুমকি দিচ্ছিল।
২০২০ সালের ৬ নভেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাতে আমার বাবাকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে যায় দুই আসামী। ওই রাতেই সিএন্ডবি ঘাট মসজিদ ও টোলঘরের ফাঁকা রাস্তায় নিয়ে নির্যাতন করে আসামীরা।
এ সময় খুন করার উদ্দেশ্যে আমার বাবার মাথায় হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। এক পর্যায়ে মৃত্যু হয়েছে মনে করে আসামীরা উল্লাস করতে করতে এলাকা ত্যাগ করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, আমার বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে গেলে আসামীরা বাঁধা সৃষ্টি করে এবং আমাদেরও হুমকি দেয়। এরপর আমার বাবা বিনা চিকিৎসায় তিনদিন পর (৯ নভেম্বর) মারা যায়।
দীর্ঘদিন পর মামলা করার বিষয়ে রুমন শেখ বলেন, ‘ওই সময়ে আসামীদের ভয়ে পোষ্টমর্টেম (ময়নাতদন্ত) ও থানা বা কোর্ট-কাচারীতে কোনো মামলা করতে পারিনি।’
এদিকে মামলাটিকে হয়রানি ও ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে ইউপি চেয়ারম্যান মো. মেহেদী হাসান মিন্টু বলেন, ওই লোককে কখনও মারা হয় নি। ওনি হয়তো অসুস্থ হয়ে মারা যেতে পারেন। এলাকার কেউ বলতে পারবে না। এখন এলাকার কিছু চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা আমার নামে কিছু না পেয়ে হয়রানি করার জন্য এ মামলা করেছেন। যারা আওয়ামী লীগ করত। তাদের মধ্যে কিছু লোক বিএনপিতে মিশে উনার ছেলেকে দিয়ে মামলা করিয়েছে।
এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার ওসি মো. হাসানুজ্জামান বলেন, মামলাটি আদালতে হওয়ার পর থানায় এফআইআর হিসেবে রুজু করা হয়েছে। সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
