সামদানি হোসেন বাপ্পী
ময়মনসিংহ
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম বলেছেন, প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। গ্রামের মানুষ ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কার্যকর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তৃণমূল মানুষের জীবনমান উন্নয়ন না হলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে না।
রোববার দুপুরে নগরীর টাউন হলের মুক্তমঞ্চে সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত বস্তি এলাকায় বসবাসকারী ৬৯টি নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে টিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বহু সরকার ক্ষমতায় এলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায়নি। জনপ্রতিনিধিদের গ্রামের মানুষ ও খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠীর কথা আরও বেশি ভাবতে হবে।
তিনি বলেন, “তৃণমূল ও প্রান্তিক মানুষকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে না পারলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না।”
তিনি আরও বলেন, ১২ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ জাতীয়তাবাদী দলকে নির্বাচিত করেছে এবং সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। কৃষক, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের কল্যাণে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
মোঃ শরীফুল আলম জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ৯ দিনের মাথায় কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে ৪০ লাখ পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে।
অনুষ্ঠানে অসহায় মানুষের জন্য সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হেলথ কার্ড বিতরণ কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আজ ৬৯টি পরিবারকে টিন দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত মহতী উদ্যোগ। অতীতে এই সিটি কর্পোরেশনে বিপুল বাজেট থাকলেও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায়নি। বরং লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি সংকটে পড়েছে।”
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ব্যয় সাশ্রয় করে ময়মনসিংহের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জাকির হোসেন বাবলু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং সিটি কর্পোরেশনের সচিব সুমনা আল মজীদ।
