স্থানীয় প্রতিনিধি
পাইকগাছায় প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে পৌরসদরের কোটি টাকার সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা ও বাসাবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ২৯ এপ্রিল সোমবার ভোর রাতে পৌর সদরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-কেন্দ্র সংলগ্ন শিবেরবাটী মৌজার আলোচিত নালিশী জমি জবর দখল চেষ্টার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আদালতে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত মামলা দুটি আমলে নিয়ে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই’কে নির্দেশনা দিয়েছেন।
আদালতে দায়ের করা মামলার বর্ননা দিয়ে আব্দুল মজিদ গোলদার গংরা জানান, পৌরসভার শিবেরবাটি মৌজায় সিএস ৬নং খতিয়ানের ২৫, ২৫/১৯৩, ২৫/১৯৪ নং দাগ ও বিআরএস ১৩৬, ৯৮/১ নং খতিয়ানের ১০, ১১, ১২, ১৩, ২৪০, ২৩৭, ২৩৮ নং দাগের মধ্যে সিএস সূত্রে ৬, ৭৬ একর নালিশী জমির প্রাপ্য উত্তরাধিকার আমরা। বসতবাড়ী নির্মাণ পূর্বক ও চিংড়ি চাষের মাধ্যমে নালিশী জমি দীর্ঘদিন আমাদের ভোগ দখলে রয়েছে।
নালিশী এ সম্পত্তি নিয়ে আব্দুল মজিদ গংরা প্রতিপক্ষ কাজী হেদায়েত উল্লাহ গংদের বিরুদ্ধে খুলনার যুগ্ম জেলা জজ ৪নং আদালতে দেওঃ ১০৯/২৩ মামলা করেছেন, মামলাটি চলমান রয়েছে। অন্যদিকে কাজী হেদায়েত উল্লাহ বাদী হয়ে পাইকগাছার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাবু ঢালী গংদের বিরুদ্ধে ১৬৩/২৩ এমআর মামলা করেন। দেওয়ানী মামলা থাকায় নির্বাহী আদালত দখল ভিত্তিক স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।
এ বিষয়ে আব্দুল মজিদ গংরা অভিযোগ করেন, আদালতের স্থিতিবস্থা’র আদেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষ কাজী হেদায়েত উল্লাহ বহিরাগত লোকজন নিয়ে ২৯ এপ্রিল ভোর রাতে নালিশী জমি জবর দখলের চেষ্টা করে। এ সময় আমরা বাধা দিলে বাসাবাড়ি ভাংচুর ও মালামাল তছনছ করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে প্রতিপক্ষরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড গোপালপুর গ্রামের মৃত কোনাই গোলদারের ছেলে আব্দুল মজিদ বয়াতী বাদী হয়ে গদাইপুর গ্রামের মৃত কাজী আমানউল্লাহ এর ছেলে কাজী হেদায়েত উল্লাহ সহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও ২০/২২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। একই আদালতে কাজী হেদায়েত উল্লাহ মজিদ গোলদার গংদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।
এ ব্যাপারে কাজী হেদায়েত উল্লাহ জানান, বর্তমান জরিপে ১.৯৮ একর নালিশী সম্পত্তি আমার নামে রেকর্ড হয়েছে। বর্তমান সন পর্যন্ত আমি কর খাজনাও পরিশোধ করেছি। এনিয়ে থানায় একাধিকবার শালিশী বৈঠক হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় সর্বশেষ স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর আবেদন করা হয়।
থানার ওসি (তদন্ত) তুষার কান্তি দাস বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় দু’পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দু’পক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দু’পক্ষই কোটি-কোটি টাকার নালিশী এ সম্পত্তি নিয়ে আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
