স্টাফ রিপোর্টার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত শিক্ষা পদক প্রদানে নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী পুরস্কার বা পদক প্রদানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক কমিটির বিরুদ্ধে নীতিমালা লঙ্ঘনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজেদের পছন্দের অংশীজনকে পুরস্কৃত করতেই ফলাফল সীটে শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির স্বাক্ষর ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অংশীজনরা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সুত্রে জানা – প্রাথমিক শিক্ষায় মানোন্নয়ন, সৃজনশীল কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে নীতিমালার-২০২৬ গ্রহণ করেছে সরকার। এই নীতিমালা অনুসারে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে মোট ১৭টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জেলা,বিভাগ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শিক্ষা পদক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষা পদক প্রদান নীতিমালা ২০২৬ এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান এবং সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি দেওয়া। শিক্ষার্থীবান্ধব শিখন পরিবেশ উন্নয়ন এবং আইসিটি নির্ভর পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

এই নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে যোগ্যতাভিত্তিক শিখন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা ও স্বীকৃতি প্রদান, কর্মকর্তাদের কার্যকর একাডেমিক নেতৃত্ব এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে।

কমিটিতে জেলা পর্যায়ে সভাপতি হিসাবি জেলা প্রশাসক সদস্য সচিব পদে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটিতে সভাপতি পদে বিভাগীয় কমিশনার ও সদস্য সচিব পদে সহকারী পরিচালক বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং জাতীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সভাপতি পদে মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও সদস্য সচিব পদে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) সহ ৮ সদস্যের কমিটি রয়েছে যাদের স্বাক্ষরে শিক্ষা পদক বাস্তবায়ন করা হবে। অভিযোগে জানা গেছে- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ বাস্তবায়নে এসব নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজেদের পছন্দের অংশীজনকে পুরস্কৃত করতে মেধাবী ও দক্ষ অংশীজনদের বঞ্চিত করে জাতীয় শিক্ষা পদক-২০২৬ দেওয়া হয়ে যাতে কমিটির সভাপতি হিসাবে সচিব মর্যাদায় মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও সদস্য সচিব পদে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও কমিটিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আর ৮শীর্ষ কর্মকর্তা কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্বে থাকলেও জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর অংশীজনদের কে দেওয়া সনদে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) একজন যুগ্ম সচিব কমিটির সভাপতি হিসাবে এবং সদস্য সচিব হিসাবে একজন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষর দিয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে মোট ১৭টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পদক দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে-যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা পদকের সনদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (DG) স্বাক্ষর করে জাতীয় পর্যায়ে এই সনদ প্রদান করেন সেখানে একজন যুগ্মসচিব পদ মর্যাদার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন)কে কমিটির সভাপতি এবং একজন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষর সদস্য সচিব হিসাবে ব্যবহার করে নীতিমালার বাইরে কিভাবে এবং কেন দেওয়া হলো এই নিয়ে শিক্ষা বিশ্লেষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রশ্নের দেখা দিয়েছে।

ময়মনসিংহ থেকে এক অংশীজন অভিযোগ করেন- তিনি জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদক এর পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছিলেন, তবে তাকে রেজাল্টের বিষয়ে কোন তথা জানানো হয়নি,প্রত্যেক অংশীজনকে ইমেইলে চিঠি দেওয়ার নিময় থাকলেও তিনি কোন চিঠি পাননি,রেজাল্ট কপি পেয়েছেন তবে
রেজাল্ট কপিতে নীতিমালা অনুযারী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (DG) স্বাক্ষর থাকার কথা থাকলেও পরিচালক প্রশাসন ও একজন শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষর করা আছে আর আছে,তিনি এটাকে একটা ডামি রেজাল্ট বলে দাবী করেন।

বিশ্লেষকদের মতে- শিক্ষা পদক প্রদান নীতিমালা ২০২৬ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক শিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও কুইজ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ এবং নেতৃত্বের মানও বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নত হলে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়বে।

নীতিমালা সমতাভিত্তিক ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এই নীতিমালা যেখানে সহায়ক ভূমিকা রাখার কথা সেখানে নীতিমালা লঙ্ঘন করায় মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *