জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে যাচ্ছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। যেখানে ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।
বুধবার বিকেল পাঁচটায় জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। এ অধিবেশনেই আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি দেশের ৫২তম বাজেট।
আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর দেশের জিডিপির আকার ৫০ লাখ ৬ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর।
বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ কোটি টাকা। যেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা হতে যাচ্ছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
বর্তমান মেয়াদে সরকারের পঞ্চম এবং আগামী নির্বাচনের আগে শেষ বাজেট এটি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালেরও পঞ্চম বাজেট। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের তিনটি মেয়াদের ১৫তম বাজেট এটি।
এবারের বাজেট বক্তব্যের শিরোনাম ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে।’ ডিজিটাল বাংলাদেশের আরেক ধাপ ওপরে হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ। বর্তমান নানা ধরনের সংকটের মধ্যেও স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১-এর স্বপ্ন দেখাবেন অর্থমন্ত্রী।
সংসদ অধিবেশনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করার সময় উপস্থিত থাকবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এনবিআরকে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য দেয়া হতে পারে; যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বেশি।
তবে, পদে পদে কর গুণতে হবে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষদের। অন্যদিকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে এবারও ব্যাংক খাতেই ভরসা রেখেছেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেটে সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর ঘোষণা আসতে পারে, কৃষি, খাদ্য ও বিদ্যুৎ খাতে বাড়তে ভতুর্কি বাড়বে।
বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম
যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা কারণে নির্বাচনের বছরে মূল্যস্ফীতির চাপ, এরিমধ্যে উচ্চ রাজস্ব আদায় করে অর্থনীতিতে গতি ও ভারসাম্য রাখার প্রয়াস; এই দুই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে আগামী বাজেটে ব্যাপকভাবে শুল্ক-করের হেরফের হতে পারে। এই অভিঘাতে যেমন বাড়তে পারে অনেক পণ্যের দাম, তেমনি কমতেও পারে অনেক পণ্যের মূল্য।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে, সেসবের মধ্যে রয়েছে:
# মোবাইল ফোন উৎপাদনে ভ্যাট আরোপ হতে পারে দুই শতাংশ। বসতে পারে সংযোজনের ক্ষেত্রেও ভ্যাট। এরফলে বাড়তে পারে মোবাইল ফোনের দাম।
# স্থানীয় এলপিজি সিলিন্ডারের মূল কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ার পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হতে পারে। সিলিন্ডার উৎপাদনকারীদের বর্তমানের ভ্যাট হার পাঁচ শতাংশ থেকে বেড়ে সাড়ে সাত শতাংশ হতে পারে।
# সিগারেটের ওপর সম্পূরক শুল্কও কিছুটা বাড়তে পারে।
# কার্বনেটেড পানীয় শিল্পের (বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রি) ওপর বর্তমানের টার্নওভার করের হার শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ, যা নতুন বাজেটে পাঁচ শতাংশ হতে পারে।
# বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের আওতায় বিনিয়োগকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে এক শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ হতে পারে।
# নির্মাণসামগ্রীর উপকরণ আমদানিতে শুল্ক বাড়তে পারে।
# শিল্পে যানবাহন আমদানিতে পিকআপ ভ্যানের ওপর শুল্কছাড় উঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।
# বর্তমানে কলম উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে। আগামী বাজেটে এ খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হতে পারে।
# প্লাস্টিকের তৈরি সব ধরনের টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, গৃহস্থালি সামগ্রী উৎপাদনে ভ্যাট পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাত দশমিক ৫০ শতাংশ করা হতে পারে।
# অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি গৃহস্থালিসামগ্রী ও তৈজসপত্রের ভ্যাট হার বাড়ানো হতে পারে।
# কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, ফেসিয়াল টিস্যু/পকেট টিস্যু ও পেপার টাওয়াল উৎপাদনেও ভ্যাটের হার বাড়ানো হতে পারে।
# জমির নামজারি ফি, হাটবাজারের ইজারামূল্য, চিড়িয়াখানার প্রবেশমূল্য বাড়তে পারে।
# ভ্রমণ অথবা চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমনে বিমান টিকিটের ওপর ভ্রমণ কর বাড়ানো হতে পারে।
# আকাশপথে দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে ২০০ টাকা ভ্রমণ কর আরোপ হতে পারে।
# স্থলপথে বিদেশ গমনে ৫০০ টাকা ও নৌপথে ৮০০ টাকা কর বহাল রয়েছে, যা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হতে পারে।
# আকাশপথে সার্কভুক্ত দেশ ভ্রমণে এক হাজার ২০০ টাকা কর আছে, যা বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করা হতে পারে।
# ডলার সাশ্রয়ে এবং শুল্ক ফাঁকি রোধে কাজুবাদাম, খেজুরের মতো খাদ্যসামগ্রীর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। তাজা ও শুকনা খেজুর আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে।
# দেশে বাদাম চাষকে উৎসাহিত করতে কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৩ শতাংশ করা হচ্ছে।
# এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ফল ও বাদামের আমদানি শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে বিধায় ফল ও বাদামের দাম বাড়তে পারে।
# শুল্ক ফাঁকি রোধে বাজেটে সব ধরনের ওভেন আমদানির শুল্ক ৩০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে।
# বিরিয়ানি-তেহারির প্রধান উপকরণ বাসমতি চাল আমদানিতে ভ্যাট বসানো হতে পারে।
# বাজেটে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়ানো হতে পারে।
# চশমার ফ্রেম ও সানগ্লাস আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে সাত শতাংশ করা হতে পারে।
# সাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হতে পারে।
# সিরিশ কাগজ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হতে পারে।
# ভাঙা জিনিস জোড়া দেওয়ার আঠা বা গ্লু সংরক্ষণমূলক শুল্ক বাড়ানো হতে পারে।
# বাড়ি নির্মাণের প্রধান উপকরণ সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানিতে বর্তমানে টনপ্রতি ৫০০ টাকা শুল্ক আছে, এটি বাড়িয়
