মোঃ নাসিরউদ্দিন
স্টাফ রিপোর্টার 
রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে নামেই ‘হাসপাতাল’। কাগজে-কলমে আধুনিক চিকিৎসার সব সরঞ্জাম থাকলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের ভাগ্যে জুটছে কেবল দীর্ঘ অপেক্ষা আর বঞ্চনা। “যন্ত্র আছে তো উপকরণ নেই, উপকরণ আছে তো যন্ত্রী নেই”—এমন অদ্ভুত অব্যবস্থাপনার বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছে এই সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রটি।
শত শত রোগীর ভিড়, ডাক্তারের দেখা মেলা ভার
প্রতিদিন সকাল থেকেই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শত শত দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে ভিড় জমান। কিন্তু বহিঃবিভাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় ডাক্তারের দেখা পাওয়া যায় না। অভিযোগ রয়েছে, ডাক্তাররা নির্ধারিত সময়ে চেম্বারে বসেন না, ফলে ব্যথায় কাতর রোগী কিংবা কোলে শিশু নিয়ে আসা মায়েদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
এক্সরে মেশিন আছে, ফিল্ম নেই
হাসপাতালটিতে আধুনিক এক্সরে মেশিন থাকলেও সেটি এখন কেবল শোভাবর্ধনকারী যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, এক্সরে করাতে গেলে বলা হয় ‘ফিল্ম নেই’। ফলে বাধ্য হয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা খরচ করে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিক থেকে এক্সরে করাতে হচ্ছে হতদরিদ্র রোগীদের।
প্যাথলজি বিভাগে অদ্ভুত সমন্বয়হীনতা
সবচেয়ে হাস্যকর এবং দুঃখজনক অবস্থা বিরাজ করছে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে। সেখানে সেবার চিত্রটি অনেকটা এরকম:
কিট আছে তো টিউব নাই:
যখন রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল বা কিট থাকছে, তখন সংগ্রহের টিউব শেষ হয়ে থাকছে।
টিউব আছে তো কিট নাই:
আবার যখন টিউব আসছে, তখন দেখা যাচ্ছে কিট বা রিএজেন্ট নেই।
এই ‘আছে-নাই’ এর অদ্ভুত খেলায় প্যাথলজি টেস্টের সেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। সাধারণ একটি রক্ত পরীক্ষার জন্যও তাদের ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি ল্যাবে।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ:
“আমরা গরিব মানুষ, সরকারি হাসপাতালে আসি একটু কম খরচে চিকিৎসা পাব বলে। কিন্তু এখানে এসে দেখি সব আছে, আবার কিছু নাই। ডাক্তার সাহেবদের জন্য বসে থাকতে থাকতে দিন শেষ হয়ে যায়, কিন্তু সেবা পাই না।” — রহিমা বেগম (৫০), তানোরের বাসিন্দা।
প্রতিকারহীন অব্যবস্থাপনা:
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই অচলাবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। যেখানে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে, সেখানে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সমন্বয়হীনতা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই ‘আছে-নাই’ সংকটের সমাধান করে ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণ সরবরাহ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক। এতে মাননীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
