সামদানি হোসনে বাপি
ময়মনসিংহ।

১৯৯৮ সালের ৫ মে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ত্রিশাল পৌরসভায় নাগরিক সেবার শপথ নিয়ে ২০১১ সালে মেয়র নির্বাচিত হলেন এ বি এম আনিছুজ্জামান (আনিছ)। অত্যন্ত সৌভাগ্যবান এই জনপ্রতিনিধি ৬ মাসের মাথায় অক্লান্ত প্রচেষ্টায় পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করলেন, দেখালেন পরিবর্তনের স্বপ্ন। কর্মগুণে আজ তিনি জায়গা করে নিয়েছেন পৌরবাসীর অন্তরে।
এ বি এম আনিছুজ্জামান (আনিছ) ১৯৮৬ সালে ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের (১) দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রাবস্থায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন। ১৯৮৩ সালে ছাত্রদের সংগঠিত করে ইউএনও অফিস ভাঙচুর করেন এবং কাঁধে পড়ে মামলার বোঝা। ১৯৮৫, ৮৬, ৮৭ , ৯০ সালে ধারাবাহিকভাবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রনায়কের ভূমিকায় ছিলেন রাজপথে।
উদ্দীপ্ত যুবক ১৯৯৪ সালে ত্রিশাল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৪-২০১৫ সাল পর্যন্ত দুইবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার দক্ষ নেতৃত্বে ত্রিশাল উপজেলায় যুবলীগ একটি শক্তিশালী সংগঠনে রূপ নেয়। ২০০১, ২০০৩, ২০০৫ সালে জোট সরকারবিরোধী আন্দোলনে ত্রিশাল উপজেলা যুবলীগ ছিল অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকায়। ফলশ্রæতিতে একের পর এক মামলার শিকার হন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মানিত সদস্য এ বি এম আনিছুজ্জামান (আনিছ) গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে বিএসসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
৫৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে পৌরশহরে নাগরিক সেবা প্রদানে সর্বদাই ব্যস্ত পৌর মেয়র আনিছ। ৩৪ জন চুক্তিভিত্তিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত আছে পৌরশহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে। পৌরসভায় রাস্তা, গলিকে নিরাপত্তার নজরদারিতে রাখতে বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। অধিকতর নিরাপত্তা

নিশ্চিতে রাতে নিয়োজিত আছে নিরাপত্তা প্রহরী।
ওয়ার্ডভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানে সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে গঠন করা হয়েছে নাগরিক কমিটি যার তদারকিতে আছেন জনগণের সেবক মেয়র নিজেই। ৩৪ কিমি বিদ্যুতায়নে সড়ক বাতিগুলো পৌরশহরের প্রতিটি সড়ক, উপসড়ক, গলিকে আলোকিত করে সারারাত।
২০১১ সাল থেকে পর পর তিনবার নির্বাচিত এ জনপ্রতিনিধি ত্রিশাল পৌরসভার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। অত্যধিক কর্মস্পৃহায় দৌড়ে বেরিয়েছেন দপ্তর থেকে দপ্তরে, তুলে ধরেছেন জনগণের দুর্ভোগ। ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন ৫২টি রাস্তা যার মধ্যে ৪০টি পাকা, ২০টি কাঁচা। ২০১১ সালের আগে ছিল না কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে সমগ্র পৌরসভায় সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকার আর সিসি ড্রেন এবং ৮ কিমি ফুটপাত। পাল্টে গেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সংযুক্ত সড়কটির চেহারা। ২.১৫ কিমি দীর্ঘ এ সড়কটি প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ মিটার প্রস্থে নির্মিত, দুপাশে শোভাবর্ধন বৃক্ষে সুসজ্জিত যা ৬নং ত্রিশাল ইউনিয়নের পশ্চিমাংশ মানুষকে দিচ্ছে বাড়তি সুবিধা। ২ কিমি দীর্ঘ কাকচর সড়কটিও একই আদলে নির্মিত। বাড়তি সুবিধা হিসাবে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কটি কমিয়ে দিয়েছে উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের যোগাযোগের দূরত্বও। তাছাড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড ত্রিশাল নামাপাড়া সড়কটিও ফুলবাড়িয়া উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগে এনেছে সহজ মাত্রা।
শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় ত্রিশাল পৌরসভা ইতোমধ্যে পৌঁছেছে। পানীয়জলের সরবরাহ বাড়াতে ২টি গভীর নলকূপ থেকে হয়েছে ৪টি এবং ১ হাজার ২০০ হোল্ডিং এ দেয়া হচ্ছে এ সুবিধা। ৬০০ বাড়িতে দেয়া হয়েছে টিউবয়েল।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *