নিজস্ব প্রতিবেদক
পাঁচ আগস্ট বিকেলে পুলিশের গুলিতে বাবা শামসু মোল্লাকে অকালে হারিয়ে এতিম হয়েছে ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার বাসিন্দা ছয় বছরের শিশু সাম্মি আক্তার।
তার মা মেঘলা বেগম(৩১) স্বামীকে হারিয়ে দুচোখে অন্ধকার দেখছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন শামসু মোল্লা(৫২)। সামনের দিনগুলো কীভাবে চলবে? মেয়েকে কীভাবে পড়ালেখা করাবেন? তা ভেবে অস্থির ও কাতর হয়ে পড়েছেন মেঘলা বেগম।
শামসু মোল্লা ফরিদপুরে একটি পরিবহন বাস চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। তিন শতাংশ জমিতে টিনশেড বিল্ডিং এ সপরিবারে বাস করতেন তিনি। শামসু-মেঘলা দম্পতির একমাত্র মেয়ে ছয় বছরের সাম্মি। সাম্মি স্থানীয় বায়তুল আমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
শামনুর অকাল ও করুণ মৃত্যুতে এখনও শোকবিহ্বল মেঘলা। তিনি বলেন, আমার আর কিছু রইল না। সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। মাথার ওপর কোনো ছাদ থাকল না। সেই-ই ছিল আমাদের একমাত্র সম্বল। দুনিয়াতে আমাদের আর দেখার কেউ নেই।
স্থানীয়রা জানান, শেখ হাসিনার সরকার পতনের দিন ৫ আগস্ট বিকেলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন শামসু। ওই দিন বিকেলে একদল লোক ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা দখল করতে গেলে পুলিশ গুলি চালায়। এ সময় শামসু গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিটি তাঁর নাক ও ঠোঁটের মাঝ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বের হয়ে যায়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও মুহুর্মুহু গুলি ছোঁড়ে। ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।গুলিবিদ্ধ শামসু চকবাজার বাদামপট্টি সড়কে এক ঘণ্টার ওপরে পড়েছিলেন।খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এসে সড়কে পড়ে থাকা শামসুকে উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শামসুকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামসুকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শামসুর স্ত্রী মেঘলা বেগম বলেন, ওই দিন বিকেল চারটার দিকে তিনি ও শামসু একসাথে বাড়ি থেকে বের হন। এটাই যে শামসুর শেষ যাত্রা তা তিনি কল্পনাও করেন নি। পথে তিনি দেবরের বাড়িতে নেমে যান। আর শামসু শহরের দিকে ঘুরতে যান। এর এক ঘণ্টার মধ্যেই শামসু পুলিশের গুলিতে লাশ হয়ে যান।
ওই এলাকার বাসিন্দা এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি চলে গেলে, সেই পরিবার শুধু বোঝে, তারা কী হারাল।সাম্মি এতিম হয়েছে সেটা বুঝার মতো তার বয়স হয়নি। ওর বাবার মৃত্যুর জবাব কী দেব আমরা ? স্বামী হারানোর ব্যথায় কী সান্ত্বনা জানাব মেঘলা বেগমকে ? একটি করুণ মৃত্যু পরিবারটিকে শেষ করে দিল।
