গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব, জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের রুপরেখা বাস্তবায়নের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগষ্ট) দুপুরে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন গােবিন্দগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যােগে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন উপজেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আতাউর রহমান সাবু এ দাবী তুল ধরেন।
এর আগে বাংলাদেশ তথা গোটা বিশ্বের উল্লেখযোগ্য গণঅভ্যূত্থানের বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করা হয়। তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়াও ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হাজারো আহত হয়ে চিকিৎসাধীন মানুষের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া হয়। গণঅভ্যত্থান পরবর্তী বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ কাজ করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবণা উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য সমন্বয়ক আতাউর রহমান সাবু বলেন, আপনারা অবগত আছন গত ১৬ জুলাই থেকে বাংলাদেশের নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর প্রকাশ্যে দিবালােকে গুলি করে হত্যা করার মাধ্যমে এদেশের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ ও তার দােসররা। সেই যুদ্ধ মোকাবেলা করতে গিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ক্রমই ঐক্যবদ্ধ হতে হতে প্রায় জাতীয় ঐক্যর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। এ অবস্থায় সকল কর্তৃপক্ষের উচিত হচ্ছে এ ঐক্যকে সত্যিকারের জাতীয় ঐক্য রুপান্তিত করে আন্দোলনের আকাঙ্খা ধারণ করে বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যােগ গ্রহণ করা। এমতাবস্থায় সবাই অবগত অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হতে তথা সরকারের শপথগ্রহণ হয়েছে এবং সরকারর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এরই প্রেক্ষিত আমাদের বিগত রুপরেখার আলােকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা প্রসঙ্গ প্রস্তাব করা হলাে। (১) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব, কতিপয় রাজনৈতিক দলের নাম দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাংচুর, অগ্নিসংযাগ, লুটপাট, দখলদারি এবং সহিংসতা করে গত কয়েক দিন জনগণের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত করা হয়েছে। তাই দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই দ্রুততম সময় রাষ্ট্রের সর্বস্তরের নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জুলাই অভ্যূত্থান চলাকালীন সময় ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চালানাে হয়েছে। এই গণহত্যার বিচারের লক্ষ্য এর পরিকল্পনাকারী, নির্দশদাতা এবং নির্দেশ পালনকারীদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে এসে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা। বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতি, লুটপাট ও পাচারের শৈতপত্র প্রকাশ এবং দুর্নীতি লুটপাটের বিচারের ব্যবস্থা এবং পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা। আয়নাঘর স্থায়ীভাবে বন্ধ করে গুম হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া এবং বিগত সরকারের আমলে হওয়া গুম ও ক্রসফায়ারের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়ন এবং ওইসব অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিত করা। কাটা বৈষম্যবিরােধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফার এখনাে যেগুলা বাস্তবায়ন হয়নি এবং ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আদালনের সড়ক ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিসমূহ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষপ গ্রহণ করা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানসহ কোনা উপদেষ্টা পরবর্তী নির্বাচন অংশগ্রহণ করতে না পারে সেবিধান তৈরির ব্যবস্থা করা। (২) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব, চলমান আন্দোলন জনগণের মধ্যে দানা বাঁধা ‘রাষ্ট্র সংস্কারের চাহিদাকে’ নুন্যতম বাস্তবায়নের লক্ষ্য প্রস্তাব তৈরির জন্য আন্তঃ, আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত, পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনী, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা, রাষ্ট্র পরিচালনার আইন-কানুন, সংবিধানের ক্ষমতাকাঠামা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা ইত্যাদি ১২টি বিষয়ের টান্সফাের্স গঠন এবং সমাজর সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে গণ-আলােচনার উদ্যােগ গ্রহণ করা। এছাড়া টান্সফাের্স দ্বারা প্রস্তাবিত এবং গণ-আলােচনার মাধ্যমে উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহের সমন্বয় ‘সংস্কারের ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরি করা। সর্বস্তর গ্রহণযােগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক পরবর্তী নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন সৃষ্টি করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রয়াজনীয় সংস্কার করা। অতঃপর ‘সংস্কার ফ্রেমওয়ার্ক’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথমে একটা ‘সংবিধান সংস্থার সভার’ নির্বাচন আয়ােজন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সভা গঠনের উদ্যােগ গ্রহণ, দায়িত্ব গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে গঠিত ‘সংবিধান সংস্থার সভা’ ইতিপূর্ব গহীত ‘সংস্কার ফ্রেমওয়ার্ক’ অনুযায়ী সংবিধান ও আইন-কানুন সংস্কার করে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন করা। জন-চাহিদা ‘সংস্কার ফ্রেমওয়ার্ক’ অনুযায়ী গহীত খসড়া সংবিধান গণভােটের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে পাশ করা। গণভােট পাশ হওয়া নতুন সংবিধানের অধীনে সরকার গঠনের জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়ােজনের ব্যবস্থা করতে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহযাগিতার মাধ্যম একটি সংসদ নির্বাচন আয়ােজন করা। উপরােক্ত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়ােজনীয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া সাপেক্ষে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তারিত করা। (৩) সরকারের জবাবদিহিতা; অন্তর্বর্তী সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকারী কর্তৃপক্ষ বৈষম্যবিরােধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি ‘জাতীয় শিক্ষার্থী কাউন্সিল’ গঠন করাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের যেকােনা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, পরামর্শ দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে উক্ত কাউন্সিলের হাতে এবং প্রয়ােজন সরকারের যেকােনা পর্যায়ের ‘অভ্যূত্থানের স্পিরিট পরিপী’ কোনপ্রকার পদক্ষেপ ঘটতে দেখলে বিধান অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক সদস্য ছামিউল আলম রাসু, গাইবান্ধা জেলা সমন্বয়ক মৃনাল কান্তি বর্মণ, কােটা বৈষম্যবিরােধী ছাত্র আন্দোলনের গাইবান্ধা জেলা সমন্বয়ক সদস্য কনক সরকার ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের উপজেলা কমিটির সদস্য মায়রা হেমব্রম। এছাড়া জেলা উপজেলার বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *