মোরশেদ মিয়া
প্রতিনিধি গাইবান্ধা

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দুর্গম ইউনিয়ন পিপুলিয়াচর যেন স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আধুনিক চিকিৎসা সেবা ও যাতায়াতের অভাবে এখানকার মানুষ প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে আছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি হৃদয়বিদারক দৃশ্য আবারও সেই বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে—অসুস্থ শিশুকে স্বজনরা কাঁধে করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন।

উত্তাল রোদে, কাঁধে অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাঁটছেন স্বজনরা। পাশে উৎকণ্ঠিত মা-বাবা। রাস্তাঘাট নেই, বাহন নেই—তাদের একমাত্র ভরসা কলার ভেলা বা নৌকা। বর্ষায় পানিতে ডুবে যায় পথঘাট, আর গ্রীষ্মে ধুলোময় কষ্টকর যাত্রা। সামান্য অসুস্থতাও এখানে মৃত্যুর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয়রা জানান, গর্ভবতী মা কিংবা মুমূর্ষু রোগীদের জন্য কোনো নৌ-অ্যাম্বুলেন্স নেই। ওষুধের অভাবে জ্বর, ডায়রিয়া, অ্যাপেন্ডিসাইটিসের মতো রোগে মানুষ দিনকে দিন ভুগছে। সুমাইয়া নামের এক তরুণী হঠাৎ অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হলে তাকে চেয়ারে বসিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে দুইজন কাঁধে করে শহরে নিয়ে যেতে হয়। সঙ্গে ছিলেন মা জোসনা বেগম ও বাবা মজিবর রহমান।

ইউপি চেয়ারম্যান মাজহারুন হান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চরের মানুষদের যেন আলাদা মানচিত্রে রাখা হয়েছে। তাদের দেশের মানুষ ভাবা হয় কি না সেটিই প্রশ্ন।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এস. এম. তানভীর রহমান বলেন, “চরাঞ্চল থেকে রোগী আনা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। স্থায়ী সমাধান জরুরি।”

ইউএনও মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন বসে পদক্ষেপ নেবে।

গাইবান্ধা সিভিল সার্জন মো. রফিকুল ইসলাম প্রস্তাব দিয়েছেন, সপ্তাহে অন্তত দুদিন ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম পাঠানো যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবিঃ

– স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন

– নৌ-অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু

– সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত

– নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম

ফুলছড়ি চরের মানুষ আজও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাদের আর্তনাদ যেন প্রশাসনের কর্ণকুহরে পৌঁছায়। একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জরুরি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে অসংখ্য প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে আসা বাংলাদেশে এমন মানবিক সংকট আর চলতে দেওয়া যায় না।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *