মানিক
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

আত্মহত্যা বর্তমানে একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাড়িয়েছে। ছোটখাটো বা সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে বর্তমান সমাজে আত্মহত্যার পরিমাণ বেড়েই চলছে। বর্তমানে ১৮-৪০ বছর বয়সী নারী ও পুরুষ বেশিরভাগ এর শিকার।  এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো উপায় নেই। বিশেষত পারিবারিক কলহ, মনমালিন্যর মতো সাধারণ ঘটনা থেকেইে ব্রেইনে আত্মহত্যার মতো জঘন্য চিন্তা আসে। গত ১৯ আগস্ট ২০২০ ইং তারিখ গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার সাবেক তাজপুর গ্রামের মোটরসাইকেল মেকানিক শ্রী আকাশ সরকারের স্ত্রী সুমি সরকার আনুমানিক দুপুর ২ টার সময় নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

বিষয়টি জানাজানি হবার পর বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাদুল্লাপুর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ মোঃ আতাউর রহমান ও আমার ঠিকানা বাংলাদেশ সংস্থার সভাপতি মাসুম পারভেজ সরেজমিনে তদন্ত করেন। এলাকাবাসী ও তদন্ত সূত্রে জানা যায় যে, আকাশ সরকার একজন মোটরসাইকের মেকানিক এবং সহজ সরল স্বভাবের। সকাল ১১ টায় নিহতের স্বামী আকাশ সরকার খাবার খেয়ে কর্মের উদ্দেশ্য দোকানে যায়। এরই মধ্যে আকাশের স্ত্রী সুমি সরকার তার নবজাতক শিশু ৬ মাস বয়স(মেয়ে) এর অক্টোবর মাসে আকীকা ও নাম করণ উপলক্ষে বাবার বাড়িতে ফোন করে সোনার চেন উপহার দেয়ার কথা বলে। কিন্তু বাবার বাড়িতে আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তারা উপহার দিতে পারবেনা বলে জানায়। বাবার বাড়ি কথা বলার পর উপহার না দেয়ার বিষয়টি মানসিকভাবে মেনে নিতে না পেরে মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে সবার আড়ালে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে সিল্কের ওড়না পেচিয়ে ৬ মাস বয়সের শিশু রেখে আত্মহত্যা করে। কিছুক্ষন পর আকাশ সরকারের ছোট ভাই  ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে এবং ডাকাডাকি করার পর দরজা না খুললে আকাশ সরকারকে মোবাইল করলে নিহতের স্বামী আকাশ দোকান থেকে বাড়ি এসে ঘরের জানালার ফাক দিয়ে দেখতে পায় তার স্ত্রী ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পরে দুই তিনজন মিলে ঘরের দরজা ভেঙ্গে সুমি সরকার কে উদ্ধার  করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেøক্সে  নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকৎিসক সুমি সরকারকে মৃত ঘোষণা করে।

এলাকাবাসী আরো জানায়, মৃতঃ সুমি সরকার আগে থেকেই অনেক রগচটা, খিটখিটে মেজাজের ও  ছিলো। কথায় কথায় আত্মহত্যার ভয় দেখাইতো। এ নিয়ে নিহতের স্বামী এবং বাবার পরিবারে শোকের মাতম চলছে সবার একটাই চিন্তা কি হবে এই ৬ মাস বয়সী শিশুর।  এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ওসি(তদন্ত) রাজু কামাল জানায় লাশ ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং মেয়ের পরিবার সাদুল্লাপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে।

আমাদের সবাইকে এই সামাজিক ব্যাধি আত্মহত্যা থেকে র্দরে থাকতে হবে। মৃত্যু কোনো সমস্যার সমাধান নয়। আসুন আমরা সবাই সচেতন হই সচেতনতা বাড়াই।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *