হোসেন
গাইবান্ধা

‎গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বোরো মৌসুমে কৃষকদের ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে। শীতের প্রভাব কাটিয়ে গরমের আমেজ শুরু হতেই মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যাপক উৎসাহ ও কর্মচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।
‎সদর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ২,২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২,১৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সম্পূর্ণ অংশ।
‎এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কৃষকদের আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ধান চাষে উৎসাহিত করতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের সারি বদ্ধভাবে ১০ ইঞ্চি পরপর চারা রোপণের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যাতে জমিতে পরিচর্যা সহজ হয় ও ফলন বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে চারা রোপণের পর জমিতে পাখি বসার জন্য কঞ্চি বা ডাল গেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে পাখি বসে ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে দমন করতে পারে। এছাড়াও উপসহকারীদের মাধ্যমে জমিতে সুষম সার ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
‎সদর উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম বলেন, শীতের পর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আমরা কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহ দিচ্ছি, যাতে কম খরচে ভালো ফলন নিশ্চিত করা যায়।
‎জানা যায়, সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নেই পুরোদমে চলছে বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ। খোলাহাটী ইউনিয়নের চকমামরোজপুর গ্রামের কৃষক মইনুল ইসলাম বলেন,
‎আমি এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সারি করে ১০ ইঞ্চি পরপর চারা রোপণ করছি। এতে জমিতে পরিচর্যা করা সহজ হয় এবং ফলনও ভালো হয়।
‎একই এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান,
‎আমরা ৬ থেকে ১০ জন মিলে জমি কন্ট্রাক্ট নিয়ে চারা রোপণের কাজ করি। এতে প্রতিদিন একজন শ্রমিক ৬০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারে। এই সময়টা আমাদের জন্য খুব ব্যস্ত হলেও উপার্জনের ভালো সুযোগ।
‎সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় শ্রমিকরাই জমি কন্ট্রাক্ট নিয়ে চারা রোপণের কাজ করছেন। বাইরের শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে না। গ্রাম-মহল্লায় কিশোর থেকে যুবক পর্যন্ত দিনমজুরেরা আনন্দের সঙ্গে কাজ করছেন। অনেকেই ভাওয়াইয়া গানের ছন্দে গান গেয়ে, হাসি-ঠাট্টার মধ্য দিয়ে ধান রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
‎এ সময় দেখা যায়, কৃষকরা জমির পাশেই বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। কোথাও নাঙ্গল জোয়াল গরু দিয়ে, আবার কোথাও ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ চলছে। কেউ সার প্রয়োগ করছেন, কেউ সেচ দিচ্ছেন। কিছু এলাকায় নারীরাও বোরো ধানের চারা তোলার কাজে অংশ নিচ্ছেন।
‎সব মিলিয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বোরো ধান রোপণের এই ব্যস্ত সময় কৃষকদের মাঝে সৃষ্টি করেছে আশার আলো, আর সবুজ মাঠজুড়ে ফুটে উঠেছে শ্রম, উৎসব ও প্রাণচাঞ্চল্যের এক অনন্য দৃশ্য।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *