হোসেন
ক্রাইম রিপোর্টার (গাইবান্ধা)

গাইবান্ধা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারপাড়া এলাকার সুপ্ত ভিলা রোড যেন এখন দুর্ভোগের আরেক নাম। বিশেষ করে সুপ্ত ভিলা থেকে রঞ্জু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৩০ মিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহনকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির এমন অবস্থার কারণে রিকশা-অটোরিকশা চলাচল, ভারী মালামাল পরিবহন এবং অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে গেলেও সড়কের বেহাল দশা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
নিম্নমানের কাজ, নাকি অবহেলা—প্রশ্ন এলাকাবাসীর
সড়কটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ হয়ে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি কেন আবার ভেঙে পড়বে? কাজের মান ঠিক ছিল কি না, নির্মাণসামগ্রী যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং কাজের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদারকি করেছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল মাহবুব এন্টারপ্রাইজ। তাদের প্রশ্ন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে অবহেলা কিংবা নিম্নমানের কাজের কারণে যদি সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে থাকে, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে?
তবে মাহবুব এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজ বা অবহেলার অভিযোগ এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত ও কারিগরি পরীক্ষা প্রয়োজন।
বাড়ছে জনদুর্ভোগ
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্বাভাবিক চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ ও জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
একদিকে রাস্তার ভাঙাচোরা অবস্থা, অন্যদিকে ভারী মালামাল পরিবহনে সমস্যা—সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
দ্রুত সংস্কারের দাবি
এ অবস্থায় গাইবান্ধা পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সুপ্ত ভিলা থেকে রঞ্জু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৩০ মিটার সড়ক দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে হবে।
পাশাপাশি পূর্বে সম্পন্ন হওয়া নির্মাণ বা সংস্কারকাজের মান, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন এবং সংশ্লিষ্টদের তদারকির বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দায়সারা মেরামত নয়—টেকসইভাবে সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ চলাচলের উপযোগী করা হবে।
তাদের একটাই প্রশ্ন—উন্নয়নের টাকা খরচ হওয়ার পরও যদি জনগণ নিরাপদে চলাচল করতে না পারে, তাহলে সেই উন্নয়নের সার্থকতা কোথায়?

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *