মোঃ ইমরুল আহসান
কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে ২ হাজার ৪৯২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। নদীর তীরবর্তী চট্টগ্রামের ৭ উপজেলা ও রাঙামাটির ২ উপজেলায় সমীক্ষা চালিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে সরকারি এই সংস্থাটি।
২০১৫ সালে হাইকোর্টের আদেশে কর্ণফুলীর সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ স্থাপনার তালিকা করেছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তাতে কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে দুই হাজার ১৮৭টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছিল। সাত বছর পর নতুন করে সমীক্ষা করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। এ সমীক্ষায় নদীর দখল-দূষণ, গতি-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মৎস্যসম্পদ, নদীপাড়ের কৃষ্টি-সংস্কৃতি, মানুষের জীবনধারা, কৃষি-পর্যটনশিল্প, সামাজিক-অর্থনৈতিক আকৃতি-প্রকৃতি উঠে এসেছে। জেলা প্রশাসন ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের জরিপ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অবৈধ স্থাপনার মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কন্টেইনার ডিপো, জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, মাছ বাজার, জেটি, বস্তি ও বাড়ি-ঘর। রয়েছে ইটভাটা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প-কারখানাসহ নানা স্থাপনা। সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী ও নগরীতে। ভারী স্থাপনা গড়ে উঠেছে কর্ণফুলী উপজেলা এবং নগরীর বন্দর ও পতেঙ্গা অংশে। দখলদারের তালিকায় রয়েছেন জনপ্রতিনিধি, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীসহ প্রভাবশালী মহল। নদীর ১০ মিটারের মধ্যে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সুপারিশ করেছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সমীক্ষাদলের সদস্যরা। একই সঙ্গে নদীর তীরে সৌন্দর্যবর্ধক প্রকল্প গ্রহণ ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করে নদীর তীরভূমি সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
নদী রক্ষা কমিশনের সমীক্ষা বলছে, রাঙামাটি জেলার সদর উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা নেই। তবে বরকল উপজেলায় দোকান ও স’মিলসহ ৮টি স্থাপনা রয়েছে। কাপ্তাই উপজেলায় অবৈধ স্থাপনা রয়েছে ৩৯৮টি। কাপ্তাই উপজেলায় কাঁচা-আধাপাকা ঘর-বাড়ি, দোকান ছাড়াও রয়েছে পাকা ভবন, স্টেডিয়াম, পোলট্রি খামার।
চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে রাঙ্গুনীয়া উপজেলায়। ৯২৭টি স্থাপনার মধ্যে রয়েছে গ্যারেজ, হোটেল, ইটভাটা, শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও স’ মিল। বোয়ালখালীতে রয়েছে ২৬৬টি অবৈধ স্থাপনা।
