জাহাঙ্গীর আলম বাবু
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সব শ্রেণিপেশার মানুষ। এতে ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এই উপজেলার দীর্ঘদিনের পরিচিত সমস্যা হলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তবে নেস্কো সহ / পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের দাবি, সম্প্রতি গ্রিড থেকে তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না দেওয়ায় গ্রাহকদেরঠিকমতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছেন না তাঁরা।
স্থানীয় বাসিনাদারা বলছেন, প্রতিদিনই গড়ে ৮-১০ বার করে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। ইফতার, তারাবিহ ও সাহরির সময়গুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তাঁরা। এ ছাড়া শহরের তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে গ্রামের মানুষেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। এ জন্য স্থানীয় নেস্কো সহ/ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের দায়ী করেছেন তাঁরা।।
বিদ্যুৎবিভ্রাটে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বলেন, একদিকে প্রচণ্ড গরম অন্যদিকে রমজান মাস। এ সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তাঁরা। অসহনীয় গরমে বিদ্যুৎহীন কয়েক ঘণ্টা তাঁদের কষ্টে কাটছে। তাঁরা বলছেন, এই গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় বেশি কষ্ট পাচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে ইফতার, তারাবিহ ও সাহরির সময় বিদ্যুৎ না পাওয়াতে গ্রামের মানুষগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার কেন্দ্রীয় মসজিদের তারাবির ইমামদয় বলেন, তারাবি শুরুর দিন থেকে তাঁরা বিদ্যুৎতের আসা-যাওয়াতে খুব কষ্ঠ পাচ্ছেন। বিশেষ করে নামাজের সময়ে বিদ্যুৎতের সমস্যা দেখা দেওয়ায় খুব অসুবিধা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উৎসুক জনতা বলেন, রমজানের শুরুর দিকে লাইন ফল্ড অজুহাত দিয়ে টানা দুই দিন এই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এ ছাড়া পুরো মাস জুড়েই দিনের মধ্যে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকে। এই গরমে রোজার দিন কী পরিমাণ যে কষ্ট হয় বলে বুঝাতে পারব না।
জামাতে নামাজ পড়া মহিলারা বলেন, রমজানে বিদ্যুতবিভ্রাটে তাঁরা অতিষ্ঠ। বিশেষ করে ইফতার ও সাহরির সময়েও বিদ্যুৎ থাকে না। উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ সমস্যা কম, কিন্তু গ্রামের দিকে অবস্থা খুবই খারাপ। কত বার যে যায় আর আসে বলাই মুসকিল।
এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, গ্রিড থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না দেওয়ায় গ্রাহকদের ঠিক মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছেন না তাঁরা। এ জন্য কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বৈষম্য করা হয় না। অঞ্চল ভেদে ভাগ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।।
