নীলফামারী ডোমারে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মোস্তাকিন ইসলাম ফরিদ (২০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে এস আই রেজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে ডিমলা উপজেলার মতিরবাজার থেকে ফরিদকে গ্রেপ্তার করে। ফরিদ ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের মৌজাপাঙ্গা গ্রামের রেয়াজুল ইসলামের ছেলে।
ছাত্রীটি পাঙ্গা মহেষ চন্দ্র লালা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ও একই এলাকার মৃত মমিনুর রহমানের মেয়ে। ছেলে ও মেয়ে সম্পর্কে চাচা ভাতিজি। বর্তমানের ছাত্রীটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।
শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ ও ভিকটিম ছাত্রীটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ছাত্রীটির পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গরুকে খাওয়ানোর জন্য ছাত্রীটি ভূট্টার পাতা আনার জন্য ভূট্টাক্ষেতে গেলে এলাকার রেয়াজুল ইসলামের ছেলে মোস্তাকিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ভূট্টাক্ষেত হতে চলে যায় ধর্ষক। প্রাণের ভয়ে ছাত্রীটি ঘটনার বিষয়ে পরিবারের লোকজনকে বলেনি। ছাত্রীটির শারীরিক আকৃতির পরিবর্তন ঘটলে তার বড় বোন মনি আক্তার জিজ্ঞাসা করলে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলেন। পরে বিষয়টি মেয়েটির পরিবারের লোকজন ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করলে স্থানীয় ভাবে আপোষ মিমাংসার চেষ্ঠা করেন।
ছেলের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় ভাবে একমাস আগে মেয়ের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের বিয়ে রেজিস্ট্রার (কাজী) গোলাম ফারুক বিয়ে রেজিস্ট্রি করান। মেয়ের বাচ্চা প্রসব না হওয়া পর্যন্ত মেয়েটি তার বাবার বাড়িতে থাকবে। মেয়েটির চিকিৎসার খরচ বাবদ ৮০ হাজার টাকা সাইদুল ইসলামের হাতে দেওয়া হয়েছে। বাচ্চা প্রসবের পরে তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে মেয়েকে ছেলের বাড়িতে নিয়ে আসবে বলেও জানান।
ডোমার থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ উন নবী বলেন, ভিকটিমের চাচা রবিউল ইসলামের বাদী হয়ে ডোমার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন মামলা নং-১৭। সেই মামলায় আসামী মোস্তাকিন ইসলাম ফরিদকে ডিমলা উপজেলার মতির বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বিকেলে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ ও ভিকটিম ছাত্রীটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
