সৈয়দ মুনিরুল হক নোবেল
দল হিসেবে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা প্রমান করায় শীঘ্রই নিবন্ধন পেতে চলেছে নতুন দুুটি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)। যার মধ্যে ট্রাম্পকার্ড হয়ে উঠতে পারে বিএনএম। নিবন্ধন ঘোষণার পরই ৩০০ সংসদীয় আসনের প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা করেছে দলটি। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটি ইতিমধ্যেই বিএনপির প্রার্থী খোঁজা শুরু করেছে। বিএনপি নির্বাচনে না আসছে দলটির বৃহৎ একটি অংশ এই দলের ব্যানারে নির্বাচনে আসার কথা আলোচনা চলছে। এমন আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে বিএনপির হাইকমান্ডেও।
রোববার (১৬ জুলাই) নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নিবন্ধনে টিকে রইল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পাটি(বিএসপি)। আর একটি স্টেপ টপকাতে পারলেই ইসির চূড়ান্ত নিবন্ধন পাবে দল দুটি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে এ তথ্য জানান ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। সভা ইসি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।
ইসি সচিব বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) নিবন্ধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এ লক্ষ্যে দল দুটিকে নিয়ে আগামীকাল পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে কারো কোন আপত্তি থাকলে তা নিষ্পত্তি করে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে। আপত্তি নিষ্পত্তির পরে কমিশন সন্তুষ্ট হলে দল দুটিকে নিবন্ধন দেয়া হবে।
তবে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে দলই নিবন্ধন পাক না কেন বিএনপির হাইকমান্ডের মাথাব্যথার কারন এখন নতুন দল বিএনএম। দলটির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির আট জনই বিএনপি পন্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা। নিবন্ধন পাওয়ার পর বর্তমান কমিটিতে পরিবর্তন আনা হবে।
বিএনএমের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুর রহমান বলেছেন, সব শর্ত মেনে আমরা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি নিবন্ধন পাব। আমরা নতুন দল। সারা দেশে প্রার্থী খুঁজছি। যেহেতু আমি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করতাম সেহেতু বিএনপির যে কেউ চাইলে আমাদের দলে যোগদান করতে পারেন।
বিএনএম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুর রহমান বর্তমানে প্রাইম ইউনির্ভাসিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান ও ডিন। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনের বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। সপ্তম সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়া হলেও তিনি হেরে যান। ২০২১ সালে বিএনএম গঠনের আগে তিনি বেতাগী থানা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ২০০৬ সালে বিএনপি রাজনীতি ছেড়ে দেন। তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক দর্শন হলো জাতীয়তাবাদ।
৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে আটজন আছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, আছেন আইনজীবীও। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন মেজর জেনারেল এহতেশাম-উল হক (অব.), অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেন, ড. ইকবাল হাসান মাহমুদ, ড. মো. শাহজাহান, ড. মো. সামসুল আলম, অ্যাডভোকেট এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার, এ কে এম মতিউর রহমান। এদিকে সদস্যসচিব হচ্ছেন মেজর মু. হানিফ (অব.), সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. নুরুজ্জামান, মো. মিজানুর রহমান (বাকু) মেজর মো. ইমরান (অব.) লে. কর্নেল মো. আলমগীর হোসাইন (অব.) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট এম এন মোস্তফা নূর, মেজর এ কে এম সাঈদুর রহমান (অব.) আবুল কাশেম, অ্যাডভোকেট সাহেদ আলী জিন্নাহ, অ্যাডভোকেট এ কে এম মিজানুর রহমান, ড. আজমল হোসেন বাচ্চু, অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির (মঞ্জু), ব্যারিস্টার ইমাম হোসেন তারেক, অ্যাডভোকেট আনোয়ারা শিখা, ব্যারিস্টার দিদার-ই-ইলাহী, ব্যারিস্টার রফিকুল আমীন, তালুকদার মনিরুজ্জামান মনির, মেজর মিজানুর রহমান (অব.), মেজর শিবলী মোহাম্মদ সাদেক (অব.), মেজর মো. তৌহিদুর রহমান চাকলাদার (অব.), এ এফ ওবায়দুল্লাহ মামুন, মো. সাইফুর রহমান।
নিবন্ধনের পর দল কেমন হতে পারে এমন প্রশ্নে দলটির নেতারা বলেছেন, নিবন্ধন পাওয়ার পরই দলের পরিধি আরো বাড়বে। চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব হিসেবে বিএনপির সাবেক দুই মন্ত্রীকে দেখা যেতে পাওে যারা এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা। কমিটিতে বিএনপিতে কোণঠাসা নেতাদের রাখা হবে। কোনো কারণে বিএনপি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করলে দলটির ব্যানারে বিএনপির বড় একটি অংশকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানো হবে। তবে সবকিছুই পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরিকল্পনা করা হয়েছে। দলটির প্রাথমিক প্রতীক ধরা হয়েছে নোঙ্গর।
