মোঃ ইমরুল আহসান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার (স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট-এসটিপি) উদ্বোধন করেছেন। এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জের পাগলা পয়ঃশোধনাগারের পুননির্মাণ ও সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা ওয়াসার ‘দাসেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
রাজধানীর আশপাশের নদীগুলোকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে সুদৃশ্য এই অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। সমন্বিত আধুনিক ব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিন ৫০ মিলিয়ন পয়ঃশোধন করা সম্ভব হবে। দেশে এটাই প্রথম এ ধরনের প্ল্যান্ট। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম একক পয়ঃশোধন কেন্দ্র হবে এটি।
দাশেরকান্দি শোধনাগার প্ল্যান্ট, যা খিলগাঁও থানার অন্তর্গত, আফতাবনগর সংলগ্ন এবং গুলশান (একাংশ), বনানী, তেজগাঁও, নিকেতন, মগবাজার, মালিবাগ, আফতাবনগর, বাড্ডা, কলাবাগান, পান্থপথ, ধানমন্ডি (একাংশ) ও হাতিরঝিলসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকার পয়ঃশোধনের ব্যবস্থা করবে।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম ও বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান জানিয়েছেন, এ ধরনের একক পয়ঃশোধনাগার প্ল্যান্ট দক্ষিণ এশিয়ায় বৃহত্তম এবং এটিই সেরা। প্ল্যান্টটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও জনবান্ধব। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, নর্দমা থেকে আনা পানি প্ল্যান্টের মাধ্যমে পরিশোধিত করে বালু নদীতে পড়ছে, যা নদীর পানির গুণগতমান বাড়াবে। এমনকি এই পানি সুপেয় করে তোলা সম্ভব হবে। আর এখান থেকে পাওয়া ফ্লাই অ্যাশ দিয়ে তৈরি হবে সিমেন্ট। এ জন্য প্রয়োজনীয় ফ্লাই অ্যাশ, পয়ঃশোধনের উপজাত সিমেন্ট কারখানায় বিক্রি করা হবে। সেটি করা হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে।
দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মহসিন আলী বলছেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই এখানে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টন ছাই পাওয়া যাবে। এই ছাই প্রসেসিং করা হলে ১০ শতাংশের মতো পাওয়া যায়। যার পরিমাণ প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ টন। এই ছাইটা সিমেন্ট কোম্পানিতে যাবে।
