হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় ১১১ বস্তা সরকারি সার পাচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নাটকীয় খেলা। স্থানীয় পুলিশ পাচারের সময় ২ জনকে গ্রেপ্তার ও সার জব্দ করে মামলা করার পর এখন ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি প্রভাবশালী চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে টলি গাড়িতে করে পাচারের সময় ড্রাইভার শাহিন মিয়া ও জহির মিয়াকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১১ বস্তা ডিএপি (দানাদার) সার জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর আল মোমেন বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন- শাহিন মিয়া, জহির মিয়া, সার ডিলার মুস্তাফিজুল ইসলাম রতন ও জিয়াউল হক লিটন। মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর ২৫-এ/২৫-ডি ধারায় রুজু করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককে। অন্য সদস্যরা হলেন- কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মাহবুব আলম, থানার সাব-ইন্সপেক্টর রিয়াজ উদ্দিন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম, কৃষক প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ মিয়া, ডিলার প্রতিনিধি জায়েদ আব্দুল আলিম ও বৈরাটি ইউনিয়নের সদস্য নজবুল ইসলাম।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখনো ওই তদন্তের রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ জড়িত একটি চক্র ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারি গুদামের ১১১ বস্তা সার কীভাবে বাইরে গেল এবং এর নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সার পাচারের ঘটনার তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে আটকৃত সার নিলামে বিক্রি প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধেই সত্যতা পাওয়া যাবে, সে যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মামলার অভিযুক্ত সার পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
