মোঃ নাসিরউদ্দিন
স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহী ও নাটোর জেলার প্রাণ প্রবাহ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী বারনই নদীকে পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্ত করতে বড় ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে চরম ভরাট ও ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়ে মৃতপ্রায় এই নদীটিকে তার আগের রূপ ও স্বাভাবিক প্রবাহে ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সম্প্রতি রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার নওহাটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ‘বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ’ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সরকারের এই দৃঢ় ও কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন।
ভরাট ও দূষণে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী
একসময় রাজশাহীর পবা থেকে নাটোর হয়ে বয়ে যাওয়া বারনই নদী ছিল স্থানীয় কৃষিকাজ, মাছ চাষ ও নৌযোগাযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্য, অবৈধ দখল ও পলি পড়ে নদীটি নাব্যতা হারিয়ে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। দূষণের কারণে নদীর পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর পানি এতটাই বিষাক্ত হয়ে উঠেছিল যে কেবল পারাপার হলেই মানুষের শরীরে ঘা ও চর্মরোগ দেখা দিত। নদী পারের মানুষের এই দীর্ঘদিনের চরম দুর্ভোগ লাঘব এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে এই খনন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
দখল রোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন
অতীতে বিভিন্ন স্থানে নদী খননের পরপরই নতুন করে অবৈধ দখলের যে অপসংস্কৃতি ও প্রবণতা দেখা গেছে, বারনই নদীর ক্ষেত্রে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। খনন পরবর্তী সময়ে নদীর জমি রক্ষা এবং দূষণ বন্ধ নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
নিয়মিত পরিদর্শন: টাস্কফোর্সের প্রতিনিধিরা প্রতি ১৫ দিন পরপর সরাসরি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি রিপোর্ট: প্রতি মাসে নদী ও খালের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে তৈরি করা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ৬ সদস্যের মনিটরিং কমিটি
প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মোট ৬ সদস্যের একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে রয়েছেন:
১. পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়: ২ জন প্রতিনিধি
২. জেলা প্রশাসন: ২ জন প্রতিনিধি
৩. স্থানীয় জনপ্রতিনিধি: ২ জন প্রতিনিধি
এই ৬ সদস্যের বিশেষ কমিটি নিয়মিত নদী পর্যবেক্ষণ এবং প্রকল্পের কাজ তদারক করবেন।
প্রাণের নদী ফিরে পাওয়ার ব্যাকুল প্রত্যাশা
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা সরকারের এই ঐতিহাসিক ও কঠোর পদক্ষেপকে দারুণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, স্বচ্ছ তদারকি ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় বারনই নদী খুব দ্রুতই তার হারানো সৌন্দর্য, স্বাচ্ছন্দ্যময় নাব্য প্রবাহ ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ফিরে পাবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *