নিরব হাসান
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী কর্মকাণ্ড বন্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত ট্রেন পরিচালক মো. শাহাদত হোসেন লিটন।
তিনি জানান, গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফাতেমা নগর স্টেশন থেকে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে আসার পথে সুতিয়াখালী স্টেশনে প্রবেশের কিছু আগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। ট্রেনটি রেললাইন অতিক্রম করার সময় ইউনিফর্ম পরিহিত ছোট-বড় একদল শিক্ষার্থী হাতে পাথর নিয়ে চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করছিল।
শাহাদত হোসেন লিটন বলেন, বিষয়টি দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। চলন্ত ট্রেন থেকে শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ডের কিছু ছবি ধারণেরও চেষ্টা করেন। পরে পথিমধ্যে এক শিশুকে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম জানতে চাইলে সে ‘সুতিয়াখালী প্রাইমারি স্কুল’ বলে জানায়। তবে বিদ্যালয়ের নামটি সঠিক কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, পাথর নিক্ষেপকারী এসব শিশু-কিশোর হয়তো জানে না, তাদের ছোড়া একটি পাথর চলন্ত ট্রেনের কোনো যাত্রীর মাথা বা চোখে আঘাত করলে প্রাণহানি কিংবা স্থায়ী পঙ্গুত্বের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে। এতে একটি পরিবার সারাজীবনের জন্য স্বজন হারানোর বেদনা বহন করতে পারে।
তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের রেললাইনের আশপাশে অবস্থিত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্তৃপক্ষের প্রতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
শাহাদত হোসেন লিটন বলেন, “শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের পাথর নিক্ষেপের ভয়াবহতা সম্পর্কে একটু সচেতন করেন, তাহলে অনেক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব। সবার সম্মিলিত সচেতনতায় রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।”
তিনি রেললাইনের আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিশু-কিশোরদের চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তা ও যাত্রীদের জীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রেললাইনের আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান তিনি।
