আরিফ রববানী
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ সদরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান যাচাইয়ে গিয়ে নিজেই শিক্ষকের ভূমিকায় নেমে পড়লেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৯সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নাজিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় এবং রামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় হাতে বই-খাতা ও কলম নিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে চক ধরে কোমলমতিদের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নেন তিনি।

পরিদর্শনকালে ইউএনও শ্রেণিকক্ষে ঢুকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে একই বেঞ্চে বসে রিডিং পড়ার দক্ষতা পরীক্ষা করেন। কে কতটা সাবলীলভাবে পড়তে পারছে তা তিনি নিজে শোনেন এবং ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে নির্দেশনা দেন। একপর্যায়ে নিজেই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে পাঠদান শুরু করেন, যা খুদে শিক্ষার্থীরা গভীর মনোযোগের সাথে অনুসরণ করে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে ইউএনও আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করলেই হবে না, শিক্ষার্থীরা কী শিখছে এবং কতটা শিখছে, সেটিও নিয়মিত যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে রিডিং দক্ষতা ভালো হলে শিশুর শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়ে। শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি শিশুর জন্য আনন্দময় ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে জানিয়ে
আগামী প্রজন্মকে মানবিক এবং সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। এসময় স্কুলের প্রধানগণসহ বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ শেষে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আনন্দদায়ক উপায়ে পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের নানা পরামর্শ দেন ইউএনও। উপজেলা প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তার এভাবে সশরীরে এসে পাঠদানে অংশ নেওয়া এবং সরাসরি সময় কাটানোর উদ্যোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী- উভয় পক্ষই দারুণ উৎসাহিত ও আনন্দিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *